“বেবি আই লাভ ইউ…!”-নম্বর কমানোর হুমকি দিয়ে ছাত্রীদের ডাকতো চৈতন্যানন্দ

ধর্মগুরুর আড়ালে থেকে ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা এবং অশালীন আচরণের দায়ে অভিযুক্ত স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। অবশেষে তাঁর অবস্থান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। জানা গিয়েছে, গেরুয়াধারী এই তথাকথিত ধর্মগুরু শেষবারের মতো ছিলেন মুম্বইতে। এই খবর জানার পর মুম্বইয়ের বাণিজ্য নগরীতে তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য একাধিক দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনি যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, তার জন্য জারি করা হয়েছে লুকআউট নোটিস।
শ্রদ্ধা ও ভরসার অপব্যবহার: ‘বেবি আই লাভ ইউ’
দিল্লির একটি ম্যানেজমেন্ট কলেজের শীর্ষ স্থানে বসে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে। দেশের মানুষ যেখানে ধর্মগুরুদের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা দেখান, সেখানেই এই ব্যক্তি সেই শ্রদ্ধা ও ভরসার অপব্যবহার করেছেন।
তাঁর কিছু মেসেজ ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়েছে, যার বার্তা অত্যন্ত অশালীন। এক ছাত্রীকে তিনি মেসেজ পাঠিয়েছেন: “বেবি আই লাভ ইউ, আই অ্যাডোর ইউ।” অন্য এক মেসেজে লিখেছেন: “তোমায় আজ দারুণ দেখাচ্ছে, আমার কাছে এসো।” অভিযোগ, এই ধরনের অসংখ্য নোংরা মেসেজ তিনি ছাত্রীদের পাঠাতেন।
রাতে ঘরে ডাকা এবং অ্যাটেনডেন্স কমিয়ে দেওয়ার থ্রেট
এই তথাকথিত গুরুর বিরুদ্ধে শুধু অশালীন মেসেজ নয়, থ্রেট দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যে ছাত্রীরা তাঁর মতের বিরুদ্ধে যেতেন বা তাঁর কাছে যেতে চাইতেন না, তাঁদের ভয় দেখানো হতো। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চাইলেও দেওয়া হতো চরম হুমকি। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবাদী ছাত্রীদের অ্যাটেনডেন্স কমিয়ে দেওয়া হতো এবং পরীক্ষার নম্বরও ঠিকঠাক দেওয়া হতো না।
জানা গিয়েছে, তিনি অনেক ছাত্রীকে রাতে তাঁর ঘরে ডাকতেন। কেউ যেতে না চাইলে তার উপর প্রতিহিংসাপরায়ণ ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ।
হোস্টেলেও লুকানো ক্যামেরা ও সিসিটিভি গেম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বেসর্বা হওয়ায় স্বামী চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ দেখাতেন না। সেই সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছামতো সব করতেন। অভিযোগ আরও গুরুতর— তিনি ছাত্রীদের হোস্টেলেও লুকানো ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলেন। পাশাপাশি সিসিটিভি-এর মাধ্যমেও তিনি পড়ুয়াদের সব গতিবিধির উপর নজর রাখতেন।
আশ্রম ও ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁর কুকীর্তির ৩০০ পাতার প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এখন মরিয়া হয়ে পলাতক এই অভিযুক্তকে খুঁজছে। মুম্বই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই ঘটনার আরও বহু অজানা তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।