বেতনহীন ছুটি কাটানোর পরেই ইস্তফা পুতুলের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানকে কী বিস্ফোরক চিঠি লিখলেন হাসিনা-কন্যা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক ডিরেক্টরের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য প্রদান এবং গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে তাকে বরখাস্ত করার জোরালো প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালেই তিনি ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে গত বছরের জুলাই মাস থেকেই তাঁকে বাধ্যতামূলক বেতনহীন ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে বেতনহীন থাকার কারণে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে অবশেষে নিজেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন সায়মা। হু প্রধানকে লেখা তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘায়িত বেতনহীন ছুটির জেরে একদিকে যেমন তিনি চরম আর্থিক টানাপোড়েনের শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে তেমনই তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সামগ্রিক দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি সর্বদা নিজের কাজের প্রতি একনিষ্ঠ ও দায়বদ্ধ ছিলেন এবং পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গেই সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই পদত্যাগের ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও স্বাস্থ্য মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার ঝড় উঠেছে।