‘বেকার হলেও খোরপোশ দেওয়া বাধ্যতামূলক’, বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

কলকাতা হাইকোর্ট একটি খোরপোশ (ভরণপোষণ) সংক্রান্ত মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, একজন স্ত্রী সামান্য চাকরি করলেও তিনি তাঁর স্বামীর মতোই জীবনযাপনের অধিকার রাখেন এবং খোরপোশ দাবি করতে পারেন। বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায়ের এই নির্দেশ অনুযায়ী, সিআরপিসি ১২৫ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী তার স্বামীর সমান মানের জীবনযাপনের দাবি জানাতে পারেন।
পানাগড়ের এক মহিলার সঙ্গে কলকাতার তালতলার এক যুবকের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে ২০১২ সালে বিবাহ হয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবন খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি, কারণ বনিবনা না হওয়ায় ছেলেটির পরিবারের লোকজন জোর করে মহিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেয়। এর ফলে মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা খোরপোশ দাবি করে মামলা করেন।
২০১৫ সালে নিম্ন আদালত মহিলার আবেদন মেনে মাসিক ৪ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর কলকাতা হাইকোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু ২০২৩ সালে কলকাতার পারিবারিক আদালত এই আবেদন খারিজ করে দেয়, যার বিরুদ্ধে মহিলা আবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতে যুবকটি দাবি করেন যে, তাঁর কোনো নিজস্ব আয় নেই এবং তার স্ত্রী নিজে মাসিক ১২ হাজার টাকা আয় করেন, তাই তিনি নিজের ভরণপোষণ নিজেই করতে পারেন। কিন্তু বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায় এই যুক্তি খারিজ করে দেন।
বিচারপতি বলেন, একজন শক্তিশালী যুবক এইভাবে তার আইনি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। বেকার হলেও একজন স্বামী তার সামাজিক দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, যেহেতু মহিলাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাই এখন স্ত্রী সামান্য রোজগার করেন বলে স্বামী তার প্রতি সামাজিক দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না।
হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে, যুবকটিকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মাসিক ৪ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে হবে। একই সঙ্গে, এতদিনকার বকেয়া টাকা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মোট ১২টি কিস্তিতে মিটিয়ে দিতে হবে।