বুথ দখলের চেষ্টা রুখতে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস একজোট! কুণাল ঘোষের মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল

রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার পারস্পরিক সম্পর্কের বরফ গলার জোরালো ইঙ্গিত মিলল। রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক থেকে বিরোধী—সব শিবিরের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষের মুখে বাম-কংগ্রেস এবং তৃণমূলের যৌথভাবে বুথ পাহারা দেওয়ার তত্ত্ব, অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে আসা “বুথ পাহারা দিন, মুড়ি চানাচুর পাঠাব” মন্তব্য—সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

কিছুদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরে বামপন্থী আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব হয়ে সিপিএমের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান জমানায় জঙ্গলরাজ চলছে বলে তোপ দেগেছিলেন তিনি। আর এবার রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আবহে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন যে, বিজেপি যদি কোথাও বুথ দখলের চেষ্টা করে, তবে মমতার সৈনিকদের পাশাপাশি সিপিএম ও কংগ্রেস—সকলেরই উচিত সেই বুথ রক্ষায় একসঙ্গে ময়দানে নামা। কুণাল ঘোষের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয় যে, তবে কি বিরোধী শিবিরেও তৃণমূলের এই অবস্থান নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে?

কার্যত, কুণাল ঘোষের সুরেই সুর মেলাতে দেখা গেছে সিপিএম ও কংগ্রেসের একাধিক নেতাকে। অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভা উপনির্বাচনগুলির আগে যেভাবে বুথস্তরে যৌথ প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হচ্ছে, তা বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে। অতীতে রাজনৈতিক আদর্শগত দিক থেকে এই দলগুলি একে অপরের চরম শত্রু হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বুথ রক্ষার স্বার্থে বিরোধী এবং শাসক শিবিরের একাংশের এই কৌশলগত অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক এবং বুথ পাহারা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের এই প্রস্তুতিকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “বুথ পাহারা দিন, মুড়ি চানাচুর পাঠাব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই হালকা চালে করা অথচ তীক্ষ্ণ মন্তব্যের নেপথ্যে বিরোধীদের আন্দোলনের প্রস্তুতিকে লঘু করে দেখানোর কৌশল রয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে, আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড় করে উর্ধ্বমুখী।