প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নিয়ে কি বরখাস্ত হবেন জ্ঞানেশ কুমার? আজ সুপ্রিম কোর্টে মেগা শুনানি

জাতীয় রাজনীতিতে বর্তমানে তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের সম্মতি না নিয়েই এককভাবে ও একচ্ছত্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর পদত্যাগ ও বরখাস্তের দাবি তুলে বিরোধী দলগুলি যেমন সরব হয়েছে, তেমনই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের হয়েছে একাধিক জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল)। আর আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং এবং আইনজীবী শৈলেন্দ্র মনি ত্রিপাঠী এই মামলাগুলি দায়ের করেছেন। আদালতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারী রাকেশ কুমার সিং মূল প্রশ্ন তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের সম্মিলিত বা সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার একাই সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নীতিগত চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখতে সিইসি-কে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হোক। পাশাপাশি, তাঁর পরিবর্তে অপর দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর সর্বসম্মত নির্দেশেই কমিশন পরিচালনার আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, আইনজীবী শৈলেন্দ্র মনি ত্রিপাঠী তাঁর পিআইএল-এ যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সিইসি ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তুলেছেন। বিশেষ করে, ভোটার নিবন্ধনের ‘ফর্ম ৬’-এ কোনওরকম বিধিবদ্ধ সংশোধন বা তিন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সফটওয়্যারের মাধ্যমে পূর্বপুরুষের বিবরণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও খারিজযোগ্য বলে দাবি করা হয়েছে। মামলায় গোয়ায় সফটওয়্যারজনিত ত্রুটির কারণে ৯৭ জন যোগ্য ভোটারের নাম পুনরুদ্ধার না হওয়ার প্রসঙ্গটিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের বিচারিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তালিকায় নাম বহাল হওয়া বৈধ ভোটারদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের নামে ১৬ লক্ষেরও বেশি আপিল দায়ের করার ঘটনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কমিশনের অন্য দুই কমিশনার কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (CEO)—কেউই এই আপিল সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না এবং এর জন্য কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। আজকের এই হাই-প্রোফাইল শুনানিতে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু, বিবেক জোশী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিক মণীশ গর্গকে পক্ষ করা হয়েছে। এখন দেশের শীর্ষ আদালত এই জটিল পরিস্থিতিতে কী রায় দেয় বা কী ধরনের পর্যবেক্ষণ পোষণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।