বুকসমান জলে আটকে প্রসূতি! জীবন বাজি রেখে স্পিডবোট ঠেলে ৩ কিলোমিটার পথ পার করল পুলিশ

চারিদিকে থৈ থৈ জল আর তার মাঝেই জলমগ্ন চন্দ্রকোনা ব্লকের মানিককুণ্ডু গ্রাম। শিলাবতী ও কেঠিয়া নদীর জেরে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে এক প্রসূতির জীবন বাঁচাতে নেমে এক অনন্য নজির গড়ল পুলিশ প্রশাসন। আগামী ৬ অক্টোবর সম্ভাব্য প্রসবের দিন থাকা সত্ত্বেও মাঝবন্যার কবলে পড়ে আটকে পড়েছিলেন চম্পা পাল মণ্ডল নামে এক প্রসূতি। বাঁকা সুলতানপুর থেকে মানিককুণ্ডু যাওয়ার প্রধান রাস্তা তখন পুরোটাই জলমগ্ন। শনিবার দুপুরে চন্দ্রকোনা-১ ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের দল সেখানে পৌঁছালেও চারদিকের জলে রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে চন্দ্রকোনা থানা।

প্রসূতিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে একটি স্পিডবোটের ব্যবস্থা করেন চন্দ্রকোনা থানার ওসি প্রত্যয় দাস। বোটে সওয়ার হয়ে পুলিশ কর্মীরা প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের ওই জলবন্দি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু জলে ভেসে থাকা পানা ও ধানক্ষেতের কারণে স্পিডবোটের ইঞ্জিন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এরপরই শুরু হয় আসল লড়াই। বাকি দুই কিলোমিটার পথ পার হতে বোটের ইঞ্জিন বন্ধ রেখেই বাঁশ দিয়ে তা ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেন খোদ থানার ওসি ও তাঁর সঙ্গীরা। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই লড়াই গড়ায় সন্ধ্যা পর্যন্ত।

অবশেষে জলবন্দি বাড়ি থেকে প্রসূতি ও তাঁর পরিবারকে স্পিডবোট তুলে ফের একইভাবে বোট ঠেলে গভীর জল পর্যন্ত নিয়ে আসেন তাঁরা। সেখান থেকে বোটের ইঞ্জিন চালু করে গ্রাম থেকে দূরে মূল পিচ রাস্তায় পৌঁছে যান সকলে। এরপর পুলিশের সুনির্দিষ্ট গাড়িতে করে ওই প্রসূতিকে নিরাপদে তাঁর বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রসূতির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সাহসী ও মানবিক উদ্যোগকে একবাক্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি ওসি প্রত্যয় দাস, তিনি কেবল এটিকে নিজের ‘কর্তব্য’ বলেই দায় সেরেছেন।