বিহারে ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা, দেশব্যাপী সমীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়ার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আসতে এখনও দিন দশেক বাকি থাকলেও, বিহারে এক বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানিয়েছে, রাজ্য থেকে অন্তত ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে। ইতিমধ্যেই আগের তালিকায় উল্লেখিত ৭.৮৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬.৬ কোটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই ৬.৬ কোটি ভোটারের মধ্যে থেকে আনুমানিক ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম নতুন তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫ শতাংশ। এই ৩৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ১২.৫ লক্ষ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তাঁদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। বাকি ১৭.৫ লক্ষ ভোটার, যা মোট পরিসংখ্যানের ২.২ শতাংশ, তারা বিহার ছেড়ে একেবারে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছেন। এছাড়াও, আরও ৫.৫ লক্ষ ভোটার সাময়িকভাবে বিহারের বাইরে রয়েছেন।
কমিশন আরও জানিয়েছে যে, এই ভোটার তালিকার একটি খসড়া আগামী ১লা আগস্ট প্রকাশ করা হবে। যাঁরা ২৫শে জুলাইয়ের আগে নিজেদের নাম ২০০৩ সালের তালিকার ভিত্তিতে যাচাই করে ফর্ম জমা দেবেন, একমাত্র তাঁরাই সেই খসড়া তালিকায় জায়গা পাবেন।
উল্লেখ্য, ২৫শে জুলাই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। অন্যদিকে, ২৮শে জুলাই সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। মূলত, নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ ও নিবিড় সমীক্ষার বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মহুয়া মৈত্র-সহ বেশ কয়েকজন মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। কারণ, আগের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের উপরেই আস্থা রেখেছে আদালত। আদালত জানিয়েছে, এই সমীক্ষা সাংবিধানিক অধিকার এবং কমিশনকে এই সমীক্ষা করা থেকে কেউ আটকাতে পারে না।
সূত্রের খবর, সেই ২৮শে জুলাই নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। শুধুমাত্র যে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে বলে, তা নয়। জানা গিয়েছে, ওই দিনই গোটা দেশজুড়ে এই ধরনের সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এই বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন এবং ২৮শে জুলাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূলত, দেশব্যাপী অবৈধ ভোটারদের ‘চিহ্নিত’ করতেই এই সমীক্ষার কথা ভাবা হচ্ছে।