বিহারে এবার ‘হয় প্রথম, নয় শেষ’! প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ’ কি উল্টে দেবে সব হিসেব?

রাজনৈতিক রণকৌশল নির্মাণে যিনি দেশকে পথ দেখিয়েছেন, এবার সেই প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor), সংক্ষেপে পিকে, নিজেই নেমে পড়ছেন বিহারের মূল লড়াইয়ে। একসময় যাঁকে ‘রঙ বদলানো গিরগিটি’ বা ‘দলবদলু’র মতো বিশেষণে বিঁধেছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা, সেই পিকে-র আগমনকে কিন্তু তাঁর শত্রু-মিত্র সকলেই বিহারের রাজনীতিতে এক নজির সৃষ্টিকারী ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এখন রাজ্য জুড়ে ভোটের উত্তাপ। আগামী ৬ ও ১১ নভেম্বর দুই দফায় ভোট এবং ফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর। ঠিক তার আগেই বিহারের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ করতে চলেছে এক নতুন দল—জন সুরাজ, যার মুখ স্বয়ং প্রশান্ত কিশোর।

উপনির্বাচনে ব্যর্থ, তবুও লক্ষ্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা!
রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে দেশের তাবড় নেতাদের সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার পর পিকে এবার সরাসরি ময়দানে। যদিও জন সুরাজ এর আগে চারটি উপনির্বাচনে প্রার্থী দিলেও কোনো জয় আসেনি। তাই, ২০২৫ সালের বিধানসভা ভোটই হতে চলেছে জন সুরাজের প্রথম আসল পরীক্ষা।

পিকে ঘোষণা করেছেন, তাঁর দল রাজ্যের ২৪৩টি আসনেই প্রার্থী দেবে। আরও বড় চমক হিসেবে দল জানিয়েছে, প্রার্থী তালিকায় থাকবে “অভাবনীয় চমক”, এবং ৯ অক্টোবর প্রকাশিতব্য সেই তালিকায় স্বয়ং পিকের নামও থাকবে বলে জল্পনা।

কারা ঝুঁকছে ‘জন সুরাজ’-এর দিকে?
মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জন সুরাজ প্রাথমিকভাবে সমাজের যে অংশকে আকর্ষণ করছে তারা হলো:

যুবসমাজ

উচ্চবর্ণের ভোটার

মধ্যবিত্ত পরিবার

শিক্ষিত নাগরিক সমাজ

তবে অন্যদিকে, ঐতিহ্যগতভাবে পরিচয়ভিত্তিক ভোট এবং জাতপাত-ভিত্তিক আনুগত্যে অভ্যস্ত বিহারের রাজনীতিতে স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ এই দলকে ঠাট্টার ছলে “ও পিলকা-ওয়ালা নাইকা পার্টি” (এলিট বা শহুরে মধ্যবিত্তদের দল) বলেও ডাকছে।

পিকে-র সাহসী চ্যালেঞ্জ: ‘হয় প্রথম, নয় একেবারে শেষ’
ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোরের করা দাবিগুলি রীতিমতো সাহসী এবং রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা হয় প্রথম হব, না হয় একেবারে শেষ। এই নির্বাচনে মাঝামাঝি বলে কিছু নেই।” তিনি আরও দাবি করেছেন, জন সুরাজ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।

যদিও একাধিক প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সমীক্ষাগুলি বলছে, জন সুরাজ হয়তো মাঝামাঝি স্থানে থেকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। কিন্তু রাজনীতিতে নবাগত পিকের এই দৃঢ়চেতা চ্যালেঞ্জ শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।