বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন, ৬৫.২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় তীব্র বিতর্ক, উত্তপ্ত সংসদ

বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়ার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে, এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এই পর্বে প্রায় ৬৫.২ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত তীব্র বিতর্ক ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাদ পড়তে চলা ৬৫.২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২ লক্ষ মৃত, ৩৫ লক্ষ স্থায়ীভাবে বিহারের বাইরে চলে গেছেন, ৭ লক্ষ একাধিক স্থানে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন এবং ১.২ লক্ষ এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফর্ম জমা দেননি।

কমিশন আরও জানিয়েছে যে, রাজ্যের মোট ৭.৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ৭.২৩ কোটি ভোটারের ফর্ম জমা পড়েছে ও ডিজিটাইজ করা হয়েছে। এই ভোটারদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ৯৯.৮% ভোটারকে এই বিশেষ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে বলেও কমিশন দাবি করেছে।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা ও সংসদের অচলাবস্থা:

এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেছে যে, ভোটের আগে দ্রুত এই প্রক্রিয়া চালিয়ে শাসক জোটকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে। আজ সংসদেও এই ইস্যুতে বিরোধীরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে, যার জেরে পঞ্চম দিনেও লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই কাজ ব্যাহত হয়েছে।

বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেছেন, “ওরা (কেন্দ্র) গরিবদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়, শুধু উচ্চবিত্তরাই যেন ভোট দিতে পারে— সেই চেষ্টাই চলছে। সংবিধান মানা হচ্ছে না।”

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস:

তবে, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ২০০৩ সালের পর এই প্রথম এত বিশদভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন চলছে। কমিশন বারবার আশ্বাস দিচ্ছে যে, কোনো যোগ্য ভোটারই তালিকা থেকে বাদ পড়বেন না। যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা আগামী ১লা আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। একইসাথে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আপত্তি জানাতে পারবে।

বিহারের এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াটি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে নির্বাচনী ফলাফলের উপর কেমন পড়ে, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক মহল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।