‘বিষ-সিরাপ’ বিতর্কে তোলপাড়! কাশির সিরাপ খেয়ে ২ শিশুর মৃত্যু, কেইসন্স ফার্মার গেটে আপ কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভ।

কেইসন্স ফার্মা (Kaysons Pharma) কোম্পানির কাশির সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় রবিবার জয়পুরে সেই কোম্পানির সদর দফতরের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন আম আদমি পার্টির (আপ) কর্মীরা। অভিযোগ, ওই একই সিরাপ খেয়ে আরও বেশ কয়েকটি শিশু হাসপাতালে, এমনকি আইসিইউতে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।
আপ কর্মী অমিত দধিচ অবিলম্বে এই কোম্পানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, “কেইসন্স ফার্মা দ্বারা তৈরি কাশির সিরাপ খেয়ে বেশ কয়েকটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকে হাসপাতালে ও আইসিইউতে ভর্তি আছে… এমনকি ডাক্তারও সেই সিরাপ খেয়ে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণেই নকল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, যা দেশ ও জনগণের প্রতি ‘মারাত্মক অবিচার’।
দধিচ বর্তমান সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে অবিলম্বে কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তাঁদের প্রতিবাদ চলতেই থাকবে।
অন্য এক আপ কর্মী আশুতোষ রাঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, দু’বছর আগে নিষিদ্ধ হওয়া একটি কোম্পানি কী করে এখনও ওষুধ বিক্রি করছে? তিনি বলেন, “এই কোম্পানিকে দু’বছর আগে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবুও তাদের তৈরি কাশির সিরাপ এখনও বিক্রি হচ্ছে… কোম্পানিকে কীভাবে ক্লিন চিট দেওয়া হলো?” তিনি সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের ওই কোম্পানির ওষুধ খেয়ে দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানান এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে, এই ঘটনার পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় ‘কোল্ডরিফ’ (Coldrif) কাশির সিরাপ খেয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রাজস্থান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন—রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলার রাজারাম শর্মাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং কেইসন্স ফার্মার তৈরি সব ওষুধের বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা বিষয়টি নিয়ে বিশদ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজস্থান মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড (RMSCL) জানিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে কেইসন্স ফার্মার ১০,১১৯টি ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪২টি ‘সাবস্ট্যান্ডার্ড’ (নিম্নমানের) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক কাশির সিরাপের যৌক্তিক ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে একটি সতর্কতা জারি করেছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কাশির সিরাপের সুপারিশ করা হয় না এবং এর উপরেও সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরামর্শ জারি করা হয়েছে।