বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার মেঘ, কিন্তু ভারতই সেরা! আইএমএফের নতুন তথ্যে চাঞ্চল্য!

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য শঙ্কা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত দরবৃদ্ধি—এমনই এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি। তবে সমস্ত বিশ্বব্যাপী সংকট ও প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারও নিজের আর্থিক সুদৃঢ়তার প্রমাণ দিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে ভারতের অর্থনীতির জন্য এক অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ ঘোষণা করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতি যখন নানা দেশে চরম মন্থর, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের এই অভূতপূর্ব উত্থান বৈশ্বিক বাজারে আলাদা নজর কেড়েছে। আইএমএফ-এর হিসেব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পূর্বের অনুমান ৩ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে এই বৈশ্বিক উন্নতির পেছনে রয়ে গেছে তীব্র মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বড় ঝুঁকির ছায়া। অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম বিশ্বব্যাপী পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা বহু দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তবে ভারতের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত উজ্জ্বল পূর্বাভাস দেশের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সেবা (সার্ভিস) খাতের চমৎকার পারফরম্যান্সকেই প্রতিফলিত করে। বিশ্বের অন্যান্য বড় বড় পরাশক্তি যখন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাজার মন্দায় ভুগছে, তখন ভারতের এই অদম্য গতিশীলতা বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধিও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অবশ্য আইএমএফ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ভারত এই বৈশ্বিক ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ বাইরে নয়। তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে তেলের চড়া দর রুপি-র মূল্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের মূল্যস্ফীতিকে তরান্বিত করতে পারে। এছাড়া চড়া জ্বালানি দর সাধারণ মানুষের ঘরোয়া বাজেট এবং কর্পোরেট মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও, বৈশ্বিক সংকটের এই ঝোড়ো হাওয়ায় ভারতের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে অনেকটাই মজবুত ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে তুলে ধরেছে।