একসঙ্গে থেকেও একা লাগছে? অজান্তেই ডিভোর্সের দিকে ঠেলে দিচ্ছে না তো এই ৫টি মারাত্মক ভুল!

অনেক সময় দেখা যায় দুটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মান দুটোই রয়েছে, তবুও তাদের সম্পর্কের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে এক অদৃশ্য দেওয়াল। একই ছাদের তলায় একসঙ্গে থেকেও জীবনটা যেন ক্রমশ একা মনে হতে থাকে। আর এই নীরব দূরত্ব থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় বিচ্ছেদের মতো কঠিন পরিণতি। তবে মনোবিদদের মতে, বড় কোনো তুমুল ঝগড়া বা বিবাদ নয়, বরং রোজকার জীবনের কিছু ছোট ছোট অবহেলিত অভ্যাসই একটা সুন্দর সম্পর্ককে ডিভোর্সের দোরগোড়ায় নিয়ে দাঁড় করায়।
সম্পর্কের এই দূরত্বের নেপথ্যে প্রথম ও প্রধান কারণ হলো পারস্পরিক কথোপকথন কমে যাওয়া বা ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’। সম্পর্কের শুরুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হলেও সময়ের সাথে সাথে তা শুধু “কী রান্না হবে?” বা “ঘরের বিল জমা দেওয়া হয়েছে কি না?”-র মতো প্রয়োজনীয় টুকটাক কেজো কথায় গিয়ে ঠেকে। নিজেদের মনের অনুভূতি, ভালোলাগা বা সারাদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার অভ্যাস বন্ধ হয়ে গেলেই মনের দূরত্ব তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, কোয়ালিটি টাইমের অভাব। ব্যস্ত জীবনযাত্রায় কাজ ও সংসারের চাপে দুজন মানুষের একসঙ্গে বসে একটু গল্প করা, সিনেমা দেখা কিংবা ঘুরতে যাওয়ার মতো একান্ত মুহূর্তগুলো হারিয়ে যায়। ভালোবাসা বেঁচে থাকার জন্য সময় অত্যন্ত জরুরি; তা না পেলে অনুভূতির গভীরতা ফিকে হতে বাধ্য।
তৃতীয়ত, প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র আসক্তি। একই বিছানায় শুয়ে দুজন দুজনার স্ক্রিনে মগ্ন থাকার দৃশ্য এখন ঘরে ঘরে। সঙ্গীর চোখের দিকে না তাকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে স্ক্রোল করার অভ্যাস সঙ্গীর মনে চরম অবহেলার অনুভূতি তৈরি করে। চতুর্থত, একে অপরকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড (Taking For Granted) ধরে নেওয়া। “ও তো আছেই, কোথাও যাবে না”—এই মনোভাব সম্পর্কের জন্য বিষের মতো কাজ করে। সঙ্গীর ছোট ছোট কাজের প্রশংসা না করা বা কষ্টের মূল্যায়ন না করলে অন্যজন নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভাবতে শুরু করে।
সর্বশেষ কারণটি হলো নিজের জগতে অতিরিক্ত হারিয়ে যাওয়া। বিয়ের পর দুজনের একসাথে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যখন কোনো একজন শুধু নিজের ক্যারিয়ার, বন্ধু ও শখ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে সঙ্গীকে সেই জগতে জায়গা দেন না, তখন সম্পর্কে একাকীত্ব গ্রাস করে। ভালোবাসা থাকলেই সম্পর্ক টিকে থাকে না, তাকে নিয়মিত যত্ন করতে হয়। সময় থাকতে এই ছোট ভুলগুলো শুধরে নিয়ে খোলামেলা কথা বললে এবং একে অপরকে একটু সময় দিলেই ভাঙন থেকে বাঁচানো সম্ভব যেকোনো সম্পর্ক।