বিশ্বের মুখে ছাই দিয়ে বাজিমাত! কয়লার দেশে এ কেমন অলৌকিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল ভারত?

বিশ্বের জলবায়ু আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা ভারতকে প্রায়শই কয়লা নির্ভর ও দূষণকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে বাস্তব চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। ভারত একদিকে যেমন তাপবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ঠিক তেমনই রেকর্ড গতিতে পুনর্নবীকরণযোগ্য বা রিনিউয়েবল শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ক্লিন এনার্জি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এলেও ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ক্লিন এনার্জি মার্কেট। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নন-ফসিল বা অ-জীবাশ্ম উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ভারত সময়ের বহু আগেই ছুয়ে ফেলেছিল। পরবর্তীতে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হলে, ২০২৫ সালেই সেই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়। ২০২৬ সালে ভারতের নন-ফসিল ফুয়েল ক্যাপাসিটি ৩০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি। এমনকি একটি পিক-ডে বা সর্বোচ্চ চাহিদার দিনে মোট চাহিদার অর্ধেকের বেশি শক্তি সরবরাহ করেছে রিনিউয়েবল সোর্সগুলো।

তবে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লেও কিছু পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। সৌর ও বায়ুশক্তি আবহাওয়া নির্ভর হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে, ফলে গ্রিড সচল রাখতে এখনও কয়লার ওপর ভরসা করতে হয়। পাশাপাশি নগরায়ণ, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রসার এবং গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। ভারী শিল্প ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য কার্বন নির্গমন কমানোর নতুন নিয়মাবলি মেনে চলাও এক বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। ভারত সরকার এই সমস্যা সমাধানে ন্যাশনাল কার্বন মার্কেট তৈরি সহ ট্রান্সমিশন সিস্টেম ও স্টোরেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

যেখানে উন্নত দেশগুলো শতবর্ষ ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে শিল্পায়নের পর পরিবেশ সুরক্ষার কথা বলছে, সেখানে ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন এখনও অনেক কম। ভারত একই সাথে নগরায়ণ, গণ-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সবুজ শক্তির রূপান্তর ঘটাচ্ছে। কেবল কয়লার ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভারতের মূল্যায়ন না করে, ক্লিন এনার্জি তৈরির এই অভূতপূর্ব গতি ও সার্বিক পরিবর্তনের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন।