বিশ্বকর্মা থেকে জগদ্ধাত্রী! বাইকে চড়ে ব্যবসা সামলাচ্ছেন এক মহিলা, বদলে দিলেন শতাধিক গৃহবধূর জীবন

চুঁচুড়ার শঙ্করী হালদার। নামটা শুনলে হয়তো অনেকে চিনবেন না, কিন্তু তাঁর তৈরি কৃত্রিম ফুলের মালা হুগলি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। বিশ্বকর্মা পুজো থেকে দুর্গাপুজো, কালীপুজো বা জগদ্ধাত্রী পুজো— শঙ্করীর কারিগরিতে তৈরি মালাতেই সেজে ওঠে একের পর এক মণ্ডপ ও প্রতিমা।
এই মহিলা শুধুমাত্র একজন সফল উদ্যোক্তা নন, তিনি শতাধিক গৃহবধূকে কর্মসংস্থানের দিশা দেখিয়েছেন। সংসার সামলে বাইকে চড়ে কাঁচামাল নিয়ে কারিগরদের কাছে পৌঁছানো থেকে শুরু করে বাজারের চাহিদা সামলানো— সবকিছু একাই সামলান তিনি।
শুরুর গল্প: ৩০০ টাকার পুঁজি থেকে লাখ টাকার ব্যবসা
২০০৭ সালে স্বামীর শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক অনটন শঙ্করীকে বাধ্য করে নতুন কিছু ভাবতে। প্রথমে অন্যের কাছ থেকে কাজ এনে কৃত্রিম ফুলের মালা তৈরি করতেন। কিন্তু তাতে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছিল না। অদম্য জেদ নিয়ে মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজি করে কলকাতার বড়বাজার থেকে সরঞ্জাম কিনে নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায় তাঁকে আজ একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সফলতার নেপথ্যে শতাধিক গৃহবধূ
শঙ্করীর এই কুটির শিল্পে বর্তমানে ৮০ জনেরও বেশি মহিলা যুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন জ্যোৎস্না কুণ্ডুর মতো গৃহবধূরা, যাঁরা বাড়ির কাজ সামলে প্রতি মাসে ২-৩ হাজার টাকা রোজগার করেন। এই উপার্জনে তাঁরা নিজেদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছেন।
শঙ্করী বলেন, “আমি নিজে স্বনির্ভর হয়েছি, কিন্তু আমার আসল লক্ষ্য হলো অন্যান্য মহিলারাও যেন স্বনির্ভর হন।” এই ভাবনা থেকেই তিনি বহু মহিলাকে এই কাজে যুক্ত করেছেন।
পুজোর মরশুমে লক্ষ টাকার লেনদেন
শঙ্করীর কারখানায় কাপড় দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের গোলাপ, পদ্ম, জবা এবং বিভিন্ন ঘর সাজানোর জিনিস। বিশ্বকর্মা পুজোর সময় কৃত্রিম ফুলের মালা ও চেইনের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। এর পাশাপাশি সারা বছরই চলে কাজ। বিশেষ করে চন্দননগরের বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির মতো বড় বড় কমিটিগুলো তাঁর কাছ থেকে ১৮ ফুটের মতো বিশাল মাপের মালার অর্ডার দেয়। চন্দননগর ফটকগোড়া জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সদস্য সুজয় শেঠ জানান, শঙ্করীর তৈরি মালার গুণগত মান খুবই ভালো এবং তাঁর কাজ সকলের প্রশংসা পায়।
শঙ্করীর এই সংগ্রাম শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বহু মহিলার কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।