দিল্লির পিজি ধসে চাঞ্চল্যকর মোড়! মালিককে জেরা করতেই সামনে এল আরও দুই বড় নাম!

দিল্লির সত্য নিকেতনে মর্মান্তিক পিজি (Paying Guest) বিল্ডিং ধসের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। গত রবিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে দুপুর সাড়ে ১টা নাগাদ আচমকাই একটি পাঁচতলা পুরনো ভবন ভেঙে পড়ে। সেখানে ছেলেদের পিজি চালানো হচ্ছিল। ভবনটিতে মেরামতির কাজ চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই সাতজনের প্রাণহানির খবর মিলেছে এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা একটানা উদ্ধারকাজের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই সমগ্র এলাকায় তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশি তদন্তে নেমে প্রথমে বাড়িটির মূল মালিক হিসেবে ৮১ বছরের হরিরাম গুপ্ত, তাঁর ৭৫ বছরের স্ত্রী উর্মিলা গুপ্ত এবং তাঁদের ৫২ বছরের ছেলে মহেশ গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নথিপত্র খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে যে ভবনটির প্রকৃত মালিক ছিলেন উর্মিলা দেবী, আর হরিরাম ও মহেশ পিজি পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন। ধৃত মহেশ বনসলকে টানা জেরা করার পরই পুলিশ এই মামলায় আরও দুই ব্যক্তির হদিশ পায়। মহেশ পুলিশকে জানান যে, ২০২৫ সালের অগস্ট মাস থেকে তিনি শুভম ত্যাগী ও সুধাংশু নামের দুই ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে বাড়িটি লিজে দিয়েছিলেন।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শুভম ত্যাগী ও সুধাংশু ওই বাড়িতে ‘হস্টেল ডেজ’ (Hostel Daze) নামে একটি পেয়িং গেস্ট বা পিজি পরিচালনা করতেন। বুধবার দিল্লি পুলিশ এই মামলায় আরও বড় পদক্ষেপ করে পিজি-র অন্যতম অপারেটর সুধাংশুকে গ্রেফতার করেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা গাফিলতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত এখনও জোড়কদমে চলছে। পুলিশি সূত্রের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, কয়েক দশক পুরনো ওই ভবনটির বেসমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে জল চুঁইয়ে পড়ার মারাত্মক সমস্যা ছিল। প্রায় ৫৫ বর্গমিটার জায়গার ওপর নির্মিত ওই পাঁচতলা বাড়িতে কোনো শক্তিশালী কলাম বা বিম ছিল না, যা এই ধসের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে দক্ষিণ দিল্লি পুরসভার (MCD) সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার এবং চারজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কীভাবে এমন একটি জনবহুল ছাত্রাবাস বছরের পর বছর ধরে চলতে পারল, তা নিয়ে এখন জোরদার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।