বিশেষ চাহিদাযুক্ত পড়ুয়াদের জন্য স্কুলে আসছে বিরাট পরিবর্তন! বড় ঘোষণা শিক্ষা দফতরের

রাজ্যের স্কুল শিক্ষায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পরিকল্পনা শুরু করেছে সরকার। সাধারণ সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়ারা যাতে উচ্চ ক্লাসেও নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে চলেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার কথা জানান স্কুল শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৯ সালের রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা শিক্ষা অধিকার আইন অনুযায়ী বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়ারা সাধারণ স্কুলগুলিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পায়। তবে শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তর পেরোনোর পর উচ্চ শ্রেণিতে ওঠার সময়ে পরিকাঠামোর অভাব এবং উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে বহু পড়ুয়া মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে অভিভাবকরাও তাঁদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ দেখান না।
এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে শিক্ষা দফতর। স্কুলগুলিতে বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা, উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহ করা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়ারা যেমন ক্লাসে পঠনপাঠনে সুবিধা পাবে, তেমনই স্কুলের চত্বরে স্বাধীনভাবে চলাচলও করতে পারবে।
তবে শুধু ভৌত পরিকাঠামোর উন্নয়নই নয়, শিক্ষকদের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপরও বিশেষভাবে জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের প্রতি সমাজের এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি আরও সংবেদনশীল ও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। রাজ্যের এই উদ্যোগ সফল হলে শিক্ষার মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া বিশেষ শিশুরা আর বঞ্চিত হবে না, বরং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।