বিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ১০ দিন নিখোঁজ, শ্মশানের ডোবায় মিলল প্রৌঢ়ের পচা-গলা দেহ! ঘনীভূত রহস্য

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত ফুলবাড়ী শ্মশান এলাকায় এক ভবঘুরে ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম ইউনুস (৬৫), যাঁর বাড়ি মালদা জেলার চাঁচল থানার নুরগঞ্জ গ্রামে। সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে একটি ডোবা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পটভূমি: পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউনুস মূলত ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। প্রায় ১০ দিন আগে একটি বিয়ে বাড়িতে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে আর তাঁর কোনও হদিস মিলছিল না। আত্নীয়রা চাঁচল থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে গঙ্গারামপুরের ফুলবাড়ী শ্মশানের ধারের একটি ডোবায় এক প্রৌঢ়ের দেহ ভাসতে দেখেন গ্রামবাসীরা।

খুনের অভিযোগ পরিবারের: মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ খবর পেয়ে দেহটি উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার পরিবারের সদস্যরা গঙ্গারামপুর থানায় এসে দেহটি শনাক্ত করেন। ইউনুসের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের ক্ষতচিহ্ন থাকায় পরিবারের দাবি—তাঁকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ: পুলিশ বুধবার মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাটে পাঠিয়েছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো—এটি নিছক দুর্ঘটনা, আত্মহনন নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পরিষ্কার হবে। গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এই রহস্যমৃত্যুর কিনারা করতে তদন্ত শুরু করেছে।

এলাকায় আতঙ্ক: শ্মশান এলাকার নির্জন ডোবা থেকে দেহ উদ্ধার হওয়ায় ফুলবাড়ী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রৌঢ় মালদা থেকে এতদূরে গঙ্গারামপুরে কীভাবে এলেন এবং তাঁর সাথে কারও কোনও শত্রুতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy