বিমান নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, হংকং থেকে দিল্লিগামী বিমানে অগ্নিকাণ্ড, গতকালও একাধিক বিপত্তি

দেশের বিমান পরিষেবাগুলিতে একের পর এক বিপত্তি ঘটায় যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল, বুধবার, বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে, যা হংকং থেকে দিল্লিতে অবতরণের পরপরই অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়।

এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র জানিয়েছেন, গতকাল (২২শে জুলাই, ২০২৫) হংকং থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট AI-315 ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে গেটে পার্ক করার কিছুক্ষণ পরেই বিমানে Auxillary Power Unit (APU)-এ আগুন লেগে যায়। ঘটনাটি ঘটে যখন যাত্রীরা বিমান থেকে নামতে শুরু করেছিলেন। মুখপাত্র আরও জানান, বিমানের সিস্টেম ডিজাইন অনুযায়ী APU স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও বিমানের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে এবং স্বাভাবিকভাবে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমানটিকে বর্তমানে গ্রাউন্ডে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিমান বিভ্রাটের ঘটনা একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকালের ঘটনাপ্রবাহে আরও ছিল:

এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান বাতিল: গতকালই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি থেকে কলকাতাগামী AI2403 ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। এটি বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি দেখা যায়। পাইলটরা “স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর” মেনে উড়ান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

ইনডিগো বিমানের জরুরি অবতরণ: একই দিনে ইন্ডিগোর একটি বিমানে ল্যান্ডিং গিয়ার সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গোয়া থেকে ইন্দোরগামী 6E 813 বিমানটি ১৪০ জন যাত্রী নিয়ে ইন্দোরের দেবী আহিল্যাবাই হোলকার বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর বিপিনকান্ত শেঠ জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটি অবতরণের আগে প্রায় ২৫ মিনিট আকাশে ছিল এবং বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে।

মুম্বইতে রানওয়ে থেকে বিমান সরে যাওয়া: এর আগে মুম্বইতে কোচি থেকে আসা একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বৃষ্টিভেজা রানওয়েতে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে থেকে সরে যায়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিমানের পিছনের অংশে ঘাসের স্তূপ আটকে যায় এবং একটি ইঞ্জিনে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। রানওয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে বিমানের সমস্ত যাত্রী নিরাপদে ছিলেন।

এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ ভারতের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থায় যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। যাত্রীরা এবং সংশ্লিষ্ট মহল এখন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।