বিধানসভাতেই শেষ ‘যুদ্ধ’? বাংলার একজন ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লি সরকারকে ফেলার হুঁশিয়ারি, এবার প্রস্তাব আনছে TMC

সিস্টেম্যাটিক ইনফরমেশন কালেকশন অন ইলেক্টর্স বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এবার এক বড় রাজনৈতিক কৌশল নিতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব এনে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়ানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বার্তা এবং শেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন
নভেম্বরের মাঝামাঝি সপ্তাহেই শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতে পারে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অধিবেশনই হতে চলেছে বর্তমান বিধানসভার শেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন। তাই রাজনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেকটাই বেশি।

তৃণমূল পরিষদীয় দলের পরিকল্পনা, এই অধিবেশনকেই হাতিয়ার করে:

কেন্দ্রকে কোণঠাসা করা: এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হওয়া।

ভোটারদের বার্তা: রাজ্যের ভোটারদের মনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক নিয়ে তাদের পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া।

তৃণমূলের দাবি ও বিধায়কের উদ্বেগ
প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর-কে বিজেপির ‘নির্বাচনী সুবিধা’-র কৌশল হিসেবে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এসআইআরের আশঙ্কায় রাজ্যে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যেতে পারে।

তৃণমূলের এক প্রবীণ বিধায়ক ইটিভি ভারত-কে বলেন:

“নির্বাচন কমিশন যেভাবে এসআইআর শুরু করেছে, তাতে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় মানুষ চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই আমাদের দল চায়, বিধানসভাতেই এই ইস্যুতে প্রস্তাব এনে বিজেপি এবং কমিশনের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানানো হোক।”

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী রেড রোডের সভা থেকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বাংলার একজন ভোটারের নাম বাদ গেলেও দিল্লির বিজেপি সরকার তিনি ফেলে দেবেন। সেই কর্মসূচির পরই প্রস্তাব আনার বিষয়ে উদ্যোগী হলো তৃণমূল।

কেরল মডেল অনুসরণ?
দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূল এই বিষয়ে কেরল বিধানসভার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে। চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বাম নেতৃত্বাধীন কেরল বিধানসভায় এসআইআর-এর বিরুদ্ধে অনুরূপ প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছিল।

যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি, তবে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সবুজ সঙ্কেত মিললেই আসন্ন অধিবেশনে প্রস্তাবটি আনা হতে পারে। এই প্রস্তাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রচারে বিজেপিকে কোণঠাসা করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে।