বিদ্রোহী শিবিরের নেতার সঙ্গে মুখোমুখি কুণাল! কিসের এত আলোচনা? মুখ খুললেন দুই হেভিওয়েট

সামনেই রাজ্যে বহু প্রতীক্ষিত পুরসভা নির্বাচন। কোন শিবিরের পাল্লা ভারী হবে, আর কার হাতে থাকবে দলের ভবিষ্যৎ—তা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিল বিধানসভার লবির একটি দৃশ্য। মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের দুই ভিন্ন শিবিরের দুই অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ—কুণাল ঘোষ এবং সন্দীপন সাহা।
মঙ্গলবার পুজোর ছুটির পর প্রথম বিধানসভা খুলতেই লবিতে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে একান্তে কথা বলতে দেখা যায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে।
কী নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা?
সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সংঘাত ও দলের প্রতীক (Symbol) কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে আইনি লড়াই গড়িয়েছে বহুদূর। একদিকে কুণাল ঘোষের মতো মমতা- অনুগত শীর্ষ মুখ, অন্যদিকে বিদ্রোহী গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম চালিকাশক্তি সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ভাঙনের পর থেকে কুণাল ঘোষ বারবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাঁছাছোলা ভাষায় নিশানা করলেও, সন্দীপনের বিরুদ্ধে কখনওই কড়া কোনো রাজনৈতিক আক্রমণ করেননি। সেই আবহে দুই নেতের এই দীর্ঘ আলাপচারিতা কেবল ‘বিজয়ার শুভেচ্ছা’ নাকি নেপথ্যে রয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জলঘোলা, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রতীক লড়াই ও দুই শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ
উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে দুই শিবিরের দূরত্ব বহুগুণ বেড়েছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে প্রতীক সংক্রান্ত লড়াই এখনও অব্যাহত। এমনকি মাঝরাস্তা থেকে নথিপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে কুণালদের নিশানা করেছিল ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে, কালীঘাটপন্থী শিবিরের দাবি, ঋতব্রতদের সঙ্গে অধিকাংশ বিধায়ক নেই এবং প্রতীক সংক্রান্ত হলফনামাতেও বিধায়করা সই করেননি। এমন উত্তপ্ত আবহেই দুই নেতাক এভাবে হাসিমুখে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা গেল।
‘রাজনীতি দেখতে চাইলে দেখতে পারেন’, কী বললেন কুণাল ও সন্দীপন?
বৈঠক শেষে রাজনৈতিক জল্পনা উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দুই নেতাই:
কুণাল ঘোষের বক্তব্য: “পুজোর পর স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে বিধানসভায় এসেছিলাম। সন্দীপন পাশের কেন্দ্রের বিধায়ক, বহু পুরনো পরিচয়। দু’জন বিধায়ক দেখা হলে রাজনীতির কথা কি হবে না? বিজয়ার সৌজন্য বিনিময় হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়।”
সন্দীপন সাহার দাবি: “বেলেঘাটা আমার কেন্দ্রের পাশেই। বাঙালির বিজয়া সম্মিলনীর প্রথা অনুযায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। আপনারা চাইলে এর মধ্যে রাজনীতি খুঁজতে পারেন, তবে এটি নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ।”
দুই নেতাই বিষয়টিকে সৌজন্যমূলক আখ্যা দিলেও, পুরভোটের ঠিক মুখটিতে বিধানসভার লবিতে এই ৩০ মিনিটের ‘সৌজন্য বিনিময়’ রাজ্য রাজনীতির আবহাওয়ায় নতুন করে অক্সিজেন জোগাল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।