প্রশান্ত কিশোরের বড় মাস্টারস্ট্রোক! বিহার বিধান পরিষদ উপনির্বাচনে প্রথম খাতা খুলল ‘জন সুরাজ পার্টি’

বিহারের রাজনীতিতে এল এক বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিধান পরিষদ (এমএলসি) নির্বাচনে খাতা খুলল প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ পার্টি’। দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক লড়াইয়ে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী সুরেশ প্রসাদ রাই দ্বারভাঙা শিক্ষক আসনে কংগ্রেসের হেভিওয়েট বর্তমান এমএলসি মদন মোহন ঝাকে ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে বিহারে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টি আশানুরূপ ফল করতে পারেনি এবং একটি আসনেও জয়লাভ করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি সেই সময় দলের সমস্ত ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তবে বিধান পরিষদের এই জয় জন সুরাজ শিবিরের অন্দরে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার তিরহুত শিক্ষক আসনে বিজেপি প্রার্থী নরেন্দ্র প্রসাদ সিং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নির্দল প্রার্থী ভূষণ কুমার ঝাকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। তবে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাকি এমএলসি আসনগুলির ভোটগণনা এখনও পুরোদমে চলছে। এবারের এই মর্যাদাপূর্ণ বিধান পরিষদ নির্বাচনে চারটি স্নাতক আসনের মোট ৯০ জন প্রার্থী এবং চারটি শিক্ষক আসনের ৬০ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ইভিএমে বন্দি রয়েছে, যার ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্যান্য হাইপ্রোফাইল আসনগুলির মধ্যে, পাটনা স্নাতক আসনে জেডি(ইউ)-এর হেভিওয়েট প্রার্থী নীরজ কুমার তাঁর আরজেডি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন, যদিও এই নির্দিষ্ট আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পাটনা শিক্ষক আসন থেকে বিজেপির বর্তমান শক্তিশালী এমএলসি নওয়াল কিশোর যাদব আরজেডি প্রার্থী সঞ্জীব কুমারের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। পাশাপাশি, সারন শিক্ষক আসনেও বড় ধরণের অঘটন ঘটে বর্তমান এমএলসি আফাক আহমেদকে পরাজিত করে জয় তুলে নিয়েছেন নির্দল প্রার্থী রাহুল রাজ।
এই নির্বাচনী ফলাফলের মাঝেই সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যে সাধারণ যুবসমাজ চাকরি পাচ্ছে না, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে পঠনপাঠন প্রায় লাটে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, “যাঁরা আমাদের দল তথা আরজেডিকে সমর্থন ও ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আমরা দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা অতীতে স্নাতক বা শিক্ষক নির্বাচনে খুব একটা জয়লাভ করিনি, তবে এবার আসন জয়ের মাধ্যমে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে আরও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি… কারণ নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি বিজেপির তালে নাচছে।”
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বাকি পড়ে থাকা আসনগুলির চূড়ান্ত ফলাফল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। গত ২৩ অক্টোবর অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বিহারের এই বিধান পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলিতে রেকর্ড ৮২.৮৫ শতাংশ এবং স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলিতে ৫৩.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। পাটনা, দ্বারভাঙা, তিরহুত ও কোসি স্নাতক আসনে মোট ৪.৯২ লক্ষ যোগ্য ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। এছাড়া পাটনা, দ্বারভাঙা, তিরহুত ও সারন শিক্ষক আসনেও ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা গিয়েছিল।