বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা, ভারতের লাভ কোথায়?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক মুহূর্তে এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিটেনে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর, বুধবার সকালে দু’দিনের সফরে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরসঙ্গী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও।

ঐতিহাসিক চুক্তির প্রহর গুনছে লন্ডন:

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামিকাল, ২৪শে জুলাই, লন্ডনে এই বহু-প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন চেকার্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।

এই চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য তিন বছর ধরে নিবিড় আলোচনা চলেছে। চলতি বছরের মে মাসেই ভারত ও ব্রিটেন এই চুক্তির বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত ইঙ্গিত দিয়েছিল। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের রফতানিতে শুল্ক বিষয়ে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পাবে ভারত, যা ভারতীয় পণ্যকে ব্রিটিশ বাজারে বিশাল প্রবেশাধিকার দেবে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংস্থাগুলিও সহজে হুইস্কি, গাড়ি এবং অন্যান্য পণ্য ভারতে আমদানি করতে পারবে, যা সামগ্রিকভাবে দুই দেশের বাণিজ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও রাজকীয় সাক্ষাৎ:

লন্ডন সফরের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তবে ব্রিটেনের এই সংক্ষিপ্ত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন, যার লক্ষ্য হবে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা করবেন তাঁরা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও দেখা করবেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রথাগত উষ্ণতা বজায় রাখবে।

FTA আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে কিনা – এই প্রশ্নের জবাবে বিদেশ সচিব মিস্রী বলেছেন যে, “এ বিষয়ে নিয়ে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে।” তাঁর এই মন্তব্যই ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে এই বহু-প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কৌশলগত অবস্থানকেও দৃঢ় করবে।