বিদেশে যাওয়ার কোনো দরকার নেই! দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই কীভাবে বিশ্বজয় করলেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন?

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার (Theoretical Physics) আন্তর্জাতিক ময়দানে সর্বোচ্চ সম্মান তথা মর্যাদাপূর্ণ অস্কার ক্লেইন মেডেল (Oskar Klein Medal) অর্জন করে গোটা দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন। কলকাতার মাটিতে বেড়ে ওঠা এবং এখানকার কলেজেই পড়াশোনা করা এই বিজ্ঞানী আজ পদার্থবিদ্যার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশ্বের কিংবদন্তি বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের মতো ব্যক্তিত্বদের ঠিক পাশেই এখন উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর নাম। এই বিরাট সাফল্যের পর সম্প্রতি নিজের শহর কলকাতায় এসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। আর সেখানেই তরুণ প্রজন্মকে মন্ত্রমুগ্ধ করে এক নতুন পথ দেখালেন এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী।

১. ছাপোষা বেশভূষা আর শিক্ষকের সারল্য

অতি সাধারণ চেহারা, চোখে ভারী চশমা, গায়ে একটি গোলাপি টি-শার্ট আর সিক্স পকেট প্যান্ট—বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায়ই নেই যে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার সময় কলেজ পড়ুয়াদের মতোই তাঁর কাঁধে ঝুলছিল একটি ব্যাগ।

কিন্তু যখন তিনি মঞ্চে উঠলেন এবং একের পর এক স্লাইড ঘুরিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতে শুরু করলেন, তখন গোটা অডিটোরিয়াম মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেল। অত্যন্ত জটিল বিষয় যেমন—’ব্ল্যাক হোল এন্ট্রপি’ (Black Hole Entropy) এবং তাঁর বিশ্বখ্যাত ‘স্ট্রিং থিওরি’ (String Theory)—কতটা সহজে সাধারণ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।

২. বিদেশে নয়, দেশের মাটিতেই সম্ভব বিশ্বমানের গবেষণা

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজ্ঞানী অশোক সেন এক যুগান্তকারী বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বিদেশের মাটিতে পাড়ি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তাঁর কথায়, “বিদেশে থেকেই যে সবসময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হবে, এমনটা নয়। যেখান থেকেই হোক, কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। এর জন্য আলাদা কোনো ম্যাজিক ফর্মুলা নেই। কাজ করতে করতেই স্বীকৃতি মেলে।”

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার সুবিধার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান যে এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ খরচের বা বড় কোনো ল্যাবরেটরির প্রয়োজন হয় না। তাই ঘরের কোণে বসে বা দেশের মাটিতে থেকেই যে বিশ্বমানের গবেষণা করা সম্ভব, তা তিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর এই সরল অথচ তেজস্বী বার্তা এখন এক বড় অনুপ্রেরণা।