দিল্লির পর এবার দক্ষিণ ভারতে বড় ধাক্কার প্রস্তুতি! ‘কোচিতে যন্তর মন্তর’-এর ডাক দিয়ে ফের কোন ঝড় তুলছে সিজেপি?

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর বিরুদ্ধে এবার দক্ষিণ ভারতের মাটিতে আন্দোলনের বড়সড় প্রস্তুতি শুরু করেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি। রাজধানী দিল্লির রাজপথে তীব্র সংঘাত ও আইনি জট কাটিয়ে এবার কেরলকে কেন্দ্র করে লড়াইয়ের ময়দানে নামছে তারা। আগামী ৭ নভেম্বর কেরলের কোচিতে এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সিজেপি।

১. কোচির রাজেন্দ্র ময়দানে ‘কোচিতে যন্তর মন্তর’ কর্মসূচি

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ এক আনুষ্ঠানিক পোস্টের মাধ্যমে সিজেপি জানিয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টে থেকে কোচির রাজেন্দ্র ময়দানে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দিল্লিতে তাদের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল কেড়ে নেওয়ার কড়া প্রতিবাদ স্বরূপ এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোচিতে যন্তর মন্তর’ (Jantar Mantar at Kochi)।

এক্স হ্যান্ডেলে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেওয়া হয়েছে— “গণতন্ত্র বাঁচাও! এসআইআর বাতিল করো! আমাদের সঙ্গে যোগ দিন – ৭ই নভেম্বর – বিকেল ৪টে | রাজেন্দ্র ময়দান, কোচি।” কোচির এই মেগা প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থাকবেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)। তাঁর পাশাপাশি দলের দক্ষিণ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা বিজয় মাল্লাঙ্গি (Vijay Mallangi) এবং জাতীয় সম্পাদক আফরিন নওয়াজ (Aafreen Nawaz)-এরও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

২. দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গ্রেফতারির ইতিহাস

উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনের ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গত মাসেই তীব্র আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব। দিল্লিতে অনুমতি ছাড়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টার অভিযোগে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে, দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং মুখপাত্র সৌরভ দাসকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ।

৩. প্রতিবাদস্থল বাতিল ও নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে প্রতিবাদ

এরই মাঝে কেন্দ্রীয় সরকার এক নির্দেশিকায় দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তর চত্বরকে সরকারি ‘প্রতিবাদস্থল’ (Protest Site) হিসেবে বাতিল বা ‘ডিনোটিফাই’ ঘোষণা করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলবৎ থাকা নিষেধাজ্ঞা তুচ্ছ করে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়েন এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এর জেরে দিল্লি পুলিশ তাঁদের তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে এবং প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁদের জেল হেফাজত কাটাতে হয়। সেই ক্ষোভ ও দিল্লি পুলিশের কড়া পদক্ষেপের পর এবার দক্ষিণ ভারতের কেরালা থেকে আন্দোলনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করতে চলেছে ‘আরশোলা’রা।