বিদায়বেলায় দেশকে ঋণের জালে ভাসাচ্ছেন ইউনূস? নতুন ৬৪ প্রকল্পে তোলপাড় বাংলাদেশ!

বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজতেই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিদায়ী পদক্ষেপগুলো। হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন দেশের অর্থনীতি সংস্কারের দাবি উঠেছিল, ঠিক তখনই বিদায়বেলায় বিশাল অংকের নতুন প্রকল্প অনুমোদন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল ঋণের বোঝা বইবে কে?
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ইউনূস সরকার রেকর্ড ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০টিই একদম নতুন প্রকল্প। বিশেষজ্ঞরা অবাক হচ্ছেন এই ভেবে যে, যেখানে দেশের নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা, সেখানে এমন বিলাসিতার প্রয়োজনীয়তা কী? বিশেষ করে ঢাকা ওয়াসার মতো সংস্থা, যাদের মাথায় ইতিমধ্যেই ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে, তাদের জন্য আরও ৭২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি’ তৈরির সিদ্ধান্ত ঘিরে হাসাহাসি শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা (৫৭১ কোটি) আসবে দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণ থেকে।
বিগত দেড় বছরে ইউনূস সরকার মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মোট খরচ ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে। অথচ সাধারণ মানুষের দাবি ছিল কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন। সেখানে কর্মসংস্থানের মতো জ্বলন্ত সমস্যায় বিশেষ জোর না দিয়ে বিতর্কিত প্রকল্পগুলো কেন অগ্রাধিকার পেল, তা নিয়ে বিরোধী শিবির ও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলছেন। আরও একটি বড় বিতর্কের জায়গা হলো আঞ্চলিক বৈষম্য। অনুমোদিত প্রকল্পের সিংহভাগই চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, অন্যদিকে দেশের ২১টি জেলা কোনো নতুন প্রকল্পই পায়নি। যদিও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের দাবি, রপ্তানি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নই তাদের লক্ষ্য, তবুও রাজনৈতিক মহলে এই ‘পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিপুল ব্যয় ও ঋণের পাহাড় কি আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে? উত্তরের অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।