মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ! নেতানিয়াহুর গোপন আবুধাবি সফর ঘিরে তেহরানের তোপ!

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক এক গোপন আবুধাবি সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে একান্তে বৈঠকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। এই গোপন কূটনীতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক কঠোর বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এবং এর পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তেহরানের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও যুদ্ধের মূল হোতা নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি বিপন্ন হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কোনো একক দেশের বিষয় নয়, এটি একটি যৌথ ও অবিভাজ্য বিষয়। প্রতিবেশী দেশগুলিকে কঠোর বার্তা দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, তারা যেন নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনোভাবেই ইজরায়েলি বা অন্য কোনো শক্তির সাম্রাজ্যবাদী ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে না দেয়। সাম্প্রতিক অতীতে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ সামরিক পদক্ষেপে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পরমাণু বিজ্ঞানীরা যেভাবে হামলার শিকার হয়েছেন, তার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে তেহরান। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা বিশ্ব বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।

ইজরায়েলি সূত্রে প্রকাশ, গত রবিবার নেতানিয়াহু একটি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে পূর্বঘোষণা ছাড়াই আবুধাবিতে এক দিনের আকস্মিক সফর করেন এবং আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালান। পরবর্তীতে আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ডব্লিউএএম’ (WAM)-এর মাধ্যমে এই বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের চলমান সমীকরণে এই গোপন বৈঠক এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি তৈরি করেছে, যার ওপর গভীর নজর রাখছে ভারতসহ বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলি।