বিজেপি নেতার কাছে টিউশন পড়ার অপরাধ! শিক্ষিকার মানসিক নির্যাতনে আত্মহত্যার হুঙ্কার নবম শ্রেণির ছাত্রীর

শিক্ষাঙ্গনে এবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মারাত্মক অভিযোগ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রামের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিজেপিপন্থী শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট টিউশন পড়ার অপরাধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাগাতার মানসিক হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল খোদ স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা নবনীতা ঘোষের স্বামী স্থানীয় এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হওয়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগে শেষপর্যন্ত ওই ছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে ‘চরম পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্কুল শিক্ষা দফতর।
ঘাটাল ব্লকের বীরসিংহ বিদ্যাসাগর বালিকা বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী এলাকারই এক গৃহশিক্ষক জয়ন্ত সাঁতরার কাছে দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেট টিউশন পড়ে আসছে। ওই গৃহশিক্ষক আবার সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, ক্লাসে ঢুকেই ওই শিক্ষিকা জেনেশুনে সেইসব ছাত্রীদের টার্গেট করেন যারা জয়ন্তর কাছে টিউশন নেয়। ক্লাসের মধ্যে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করে রাজনৈতিক আলোচনা করা এবং বিজেপি সমর্থক শিক্ষকের কাছে পড়া বন্ধ না করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।
গত ১০ অগস্ট এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। উল্টে ছাত্রীর ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়তে থাকে। উপায় না দেখে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে ওই ছাত্রী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানসিক নির্যাতনের কারণে সে মারাত্মক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এবং অবস্থার সুরাহা না হলে সে চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে।
ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই জেলা শিক্ষা দফতরের টনক নড়ে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সহকারী জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দ্রুত ঘাটালের সার্কেল ইন্সপেক্টরকে স্কুলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবারই স্কুলে গিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকের।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা নবনীতা ঘোষ। তাঁর দাবি, তাঁকে এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য ওই ছাত্রীকে কেউ বা কারা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, গৃহশিক্ষক জয়ন্ত সাঁতরাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শের ফারাকের কারণেই তাঁর ছাত্রীকে টার্গেট করা হচ্ছে।