‘বাদশা’র পর এবার সৌমি মুখোপাধ্যায়! পদ্মশ্রী রতন কাহারের জনপ্রিয় গান বিকৃতির অভিযোগে তুলকালাম!

১৯৭২ সালের সেই কালজয়ী সৃষ্টি—‘বড়লোকের বিটি লো লম্বা লম্বা চুল…’। আজ বার্ধক্যে এসে সেই গানই যেন পদ্মশ্রী শিল্পী রতন কাহারের জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলিউডের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশার পর এবার আরও এক সঙ্গীত শিল্পী সৌমি মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি ও সাইবার অপরাধের মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বাংলার লোকসঙ্গীতের এই প্রবাদপ্রতিম পুরুষ। অনুমতি ছাড়াই জনপ্রিয় এই লোকগান বিকৃত করা, ভুল সুরে গাওয়া এবং মূল স্রষ্টার নাম পর্যন্ত উল্লেখ না করার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন তিনি।
খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি সৌমি মুখোপাধ্যায় নামে এক শিল্পী এই গানটি নতুন আঙ্গিকে গেয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ ও দৃশ্যায়ন করেছেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কিংবদন্তি শিল্পী রতন কাহারের থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি তাঁর নামও কোথাও ক্রেডিট হিসেবে রাখা হয়নি। বারবার এমন মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন ও সৃষ্টির অবমাননায় গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন ৯১ বছর বয়সি এই শিল্পী। চুপ করে বসে না থেকে তিনি সরাসরি ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বা মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার কাছে কড়া ই-মেল মারফৎ নালিশ ঠুকেছেন। পাশাপাশি, বীরভূমের সিউড়ি সাইবার থানাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে বলিউড র্যাপার বাদশা এই একই গান রিমিক্স করে নতুনভাবে পেশ করেছিলেন, যা নিয়ে সেসময় দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। যদিও সেই সময় প্রতিবাদের মুখে পড়ে বাদশা পরবর্তীতে রতন কাহারকে সম্মান জানিয়ে আর্থিক পারিশ্রমিক হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সঙ্গীতপ্রেমী মহল। বীরভূমের সিউড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই মাটির মানুষটি ভাদু, ঝুমুর ও লোকগান নিয়ে তাঁর আজীবন সাধনা করে গিয়েছেন। লোকসংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তাঁকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
আজ বার্ধক্যের কোঠায় দাঁড়িয়ে নিজের সৃষ্টিকে বারবার এভাবে লুঠ হতে দেখে ভেঙে পড়েছেন তিনি। গানের সুর বিকৃত হওয়ার কারণে সাধারণ শ্রোতাদের কাছেও ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন রতন কাহার। ডেইলি হান্টের পাঠকদের একাংশের মতে, বাংলার এই অমূল্য লোকসংস্কৃতি ও শিল্পীদের কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সাইবার থানা এবং মেটার মতো টেক জায়ান্টের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করার পর এখন জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।