বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন? এই ৫ ভুল করলে মুহূর্তে জলে যাবে সারা জীবনের জমানো টাকা!

বাড়ি কেনা প্রতিটি মানুষের জীবনে অন্যতম বড় ও আবেগঘন সিদ্ধান্ত। সারাজীবনের কষ্টের জমানো অর্থ এবং ব্যাংক ঋণের ওপর ভরসা করে মানুষ নিজের একটি ঠিকানার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু একটুখানি অসাবধানতা বা তাড়াহুড়ো সারা জীবনের সঞ্চয় এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সুন্দর বিজ্ঞাপনে না ভুগে, সম্পত্তি চূড়ান্ত করার আগে কিছু আইনি ও প্রশাসনিক দিক খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিপত্রে সই করার আগে বা এক টাকাও অ্যাডভান্স দেওয়ার পূর্বে প্রধানত ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গভীরভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত:
আসল মালিকানা যাচাই: সম্পত্তিটি যিনি বিক্রি করছেন, আইনগতভাবে তিনিই প্রকৃত মালিক কি না, তা দলিলপত্র দিয়ে নিশ্চিত করুন। সম্পত্তিটির পূর্ববর্তী মালিকদের ইতিহাস এবং একাধিক অংশীদার থাকলে সকলের লিখিত সম্মতি রয়েছে কি না, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখুন। বিশেষ করে কোনো বিল্ডারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনলে তা ‘রেরা’ (RERA) পোর্টালে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক।
পূর্ববর্তী ব্যাংক ঋণ: বাড়ি বা প্লটের বিপরীতে কোনো বকেয়া লোন বা ঋণ রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে চেক করুন। অনেক সময় বিক্রেতা ব্যাংক বন্ধক রেখেই সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেন, যা পরবর্তীতে ক্রেতার জন্য বড় আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
নির্মাণ অনুমোদন ও নকশা: নির্মাণাধীন বা প্রস্তুত ফ্ল্যাট কেনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়িটির সমস্ত আইনি অনুমোদন এবং অনুমোদিত প্ল্যান বা নকশা নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক।
বিক্রিয় চুক্তি ও শর্তাবলি: তাড়াহুড়ো করে বা না পড়ে কখনো চুক্তিপত্রে সই করবেন না। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তি ছাড়া কোনো বিল্ডার ফ্ল্যাটের মোট দামের ১০ শতাংশের বেশি অগ্রিম নিতে পারেন না। তাই দাম, পরিশোধের সময়সীমা এবং শর্তগুলো স্পষ্টভাবে জেনে নিন।
প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সংগ্রহ: বাড়ি সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গেলেই কাজ শেষ নয়। দখল নেওয়ার সময় সমস্ত আইনি সনদ, ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স এবং মালিকানার মূল কাগজপত্র নির্মাতার কাছ থেকে বুঝে নেওয়া এবং তা নিরাপদে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সামান্য অবহেলা বা যাচাইয়ের অভাবে আইনি প্যাঁচ এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার চেয়ে শুরুতেই একটু সতর্ক হওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।