এক বছরে ৩৫% রিটার্ন! শেয়ার বাজার নাকি সোনা, কোনটিতে টাকা ঢাললে কোটিপতি হওয়া সময়ের অপেক্ষা?

সাম্প্রতিক সময়ে সোনার অবিশ্বাস্য দাম বৃদ্ধি এবং এক বছরে প্রায় ৩৫ শতাংশের চোখ ধাঁধানো রিটার্ন বিনিয়োগকারীদের বড় একটা অংশের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, গত এক বছরে নিফটি ৫০ সূচক নেতিবাচক ৫.৪ শতাংশ রিটার্ন দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে—তবে কি শেয়ার বাজার ছেড়ে সমস্ত জমানো টাকা সোনাতেই ঢেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

তহবিল এবং বাজার বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই বিভ্রান্তি সহজেই কেটে যায়। ফান্ডসাইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ২০০০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বল্পমেয়াদে সোনা অতুলনীয় ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা।

২০ বছরের বিনিয়োগের খতিয়ান: কে এগিয়ে?

স্বল্প মেয়াদে সোনার ঔজ্জ্বল্য বেশি থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে শেয়ার বাজারই যে আসল রাজা, তার একটি তুলনামূলক হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

বিনিয়োগের সময়কালসোনায় বিনিয়োগের আনুমানিক মূল্যশেয়ার বাজার (নিফটি ৫০) বিনিয়োগের মূল্যএগিয়ে কে?
১ বছর১,৩৫,৩০০ টাকা৯৪,৬০০ টাকাসোনা
১০ বছর২,৫৯,৩৭০ টাকা৩,১০,৫৮০ টাকাশেয়ার বাজার
১৫ বছর৪,১৭,৭২০ টাকা৫,৪৭,৩৫০ টাকাশেয়ার বাজার
২০ বছর৬,৭২,৭৫০ টাকা৯,৬৪,৬২০ টাকাশেয়ার বাজার

(নোট: ১ বছরের হিসাব সাম্প্রতিক প্রকৃত রিটার্নের ওপর ভিত্তি করে এবং ১০, ১৫ ও ২০ বছরের পরিসংখ্যান সোনা ও শেয়ারের ঐতিহাসিক গড় বার্ষিক রিটার্নের ভিত্তিতে প্রস্তুত।)

সামান্য ২ শতাংশের তফাত কেন বিশাল পার্থক্য গড়ে দেয়?

দীর্ঘমেয়াদী পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোনা এবং নিফটি ৫০-এর বার্ষিক গড়ের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ। প্রথম দর্শনে এই ২ শতাংশের পার্থক্য সামান্য মনে হলেও, চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compound Interest) জাদুতে ১০ থেকে ২০ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এটি আপনার মূলধনে লক্ষ লক্ষ টাকার বিরাট ফারাক গড়ে দেয়।

আপনার পোর্টফোলিও কেমন হওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বন্দ্বে কোনো একটি দিক অন্ধের মতো বেছে না নিয়ে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদে বড় অংকের সম্পদ বা ওয়েলথ ক্রিয়েশনের জন্য পোর্টফোলিওর সিংহভাগ অংশ শেয়ার বাজারে রাখা উচিত।

পাশাপাশি, সোনা কেবল লাভের মাধ্যম নয়, এটি আপনার পোর্টফোলিওর শক্তিশালী ‘শিল্ড’ বা সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। যখনই শেয়ার বাজারে ধস নামে বা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন সোনা সেই ধাক্কা সামলে পুরো পোর্টফোলিওকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। তাই দুটি ক্ষেত্রের সঠিক মেলবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার একমাত্র চাবিকাঠি।