‘বাংলা রাখা হোক নাম’—পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন ঘিরে মোক্ষম প্রশ্ন তুললেন কুনাল

এবার চিরতরে বদলে যেতে চলেছে রাজ্যের ইংরেজি পরিচিতি! ইংরেজিতেও আর ‘West Bengal’ বা ‘Bengal’ নয়, এ রাজ্যের নাম হবে ‘Paschim Banga’। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে তুমুল শোরগোল। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত একটি বিল রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। তবে শমীকের এই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

‘পশ্চিমবঙ্গ নামের পেছনে রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস’

রাজ্যের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, “কোনো অবস্থাতেই এই রাজ্যের নাম আর বঙ্গ বা বেঙ্গল রাখা হবে না। এবার থেকে রাজ্যের অফিসিয়াল ইংরেজি নামও হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’। বিধানসভায় আমাদের সরকার খুব দ্রুত এই বিল নিয়ে আসতে চলেছে, যাতে এ রাজ্যের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে জোর দিয়েছেন যে, রাজ্যের নামের সঙ্গে অতীতের ইতিহাস জড়িত থাকা অত্যন্ত জরুরি।

‘বাংলা রাখা হোক নাম’—সোচ্চার কুণাল ঘোষ

শাসকদলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, জোড়জবরদস্তি ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ভোটের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, “ভোটের সময় তো বারবার ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কথা বলা হয়েছিল, তখন কেন ‘সোনার পশ্চিমবাংলা’ বলা হয়নি? যদি পশ্চিমবাংলা বলে কোনো নাম রাখতেই হয়, তবে তো পূর্ববাংলা বলেও কিছুর অস্তিত্ব থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবে তো এখন আর কোনো পূর্ববাংলা নেই!”

জাতীয় স্তরের প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তি

পাশাপাশি নাম পরিবর্তনের পেছনে একটি জরুরি প্রযুক্তিগত বা ‘টেকনিক্যাল’ দিক তুলে ধরেছেন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বর্ণানুক্রমিক (Alphabetical) সুবিধার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠকগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা অনেক শেষে কথা বলার সুযোগ পান।

রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ (Bangla) হলে জাতীয় স্তরে আলোচনার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই এগিয়ে থাকত। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখেই রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং বামেরাও তাতে সায় দিয়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। রাজ্যের নাম পরিবর্তন ঘিরে এখন বিজেপি-তৃণমূলের এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।