বাংলার পর্যটনে বড় মোড়! হারানো গৌরব ফেরাতে ৫০০ কোটি টাকার মেগা বাজেট ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

একসময় দেশ তথা বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই কদর ও আকর্ষণ কিছুটা ম্লান হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের পর্যটন শিল্পের সেই হারানো গৌরব পুনরায় ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শুক্রবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পর্যটন দফতরের নতুন লোগো উন্মোচন ও পরিচিতি অনুষ্ঠান থেকে এই সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যটন পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে বাংলার নতুন ব্র্যান্ড আইডেন্টিটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। পর্যটনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ প্রকৃত অর্থেই ‘ডেস্টিনেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অন্যান্য রাজ্যগুলি অনেকটাই এগিয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, দার্জিলিং, কালিম্পং বা কার্শিয়াংয়ের উপর দিয়ে পর্যটকরা যাতায়াত করলেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত সিকিমের গ্যাংটকে চলে যান। এই চিত্র বদলাতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য সরকার।

পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সমস্ত সরকারি ট্যুরিস্ট লজ সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুকুটমণিপুর, দীঘা, বকখালি থেকে শুরু করে ডুয়ার্স এবং দার্জিলিং পর্যন্ত সমস্ত সরকারি কুটির বা লজ নতুন করে সাজিয়ে তোলা হবে, যাতে মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারগুলি আগের মতো সেখানে গিয়ে স্বস্তিতে ছুটির দিন কাটাতে পারেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গঙ্গার বুকে ‘ওয়াটার মেট্রো’ চালুর বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেরলের পর কলকাতা দেশের ১৭তম শহর হিসেবে এই আধুনিক পরিষেবা পেতে চলেছে। পাশাপাশি, বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পর্যটকদের সুবিধার্থে নতুন ১১টি বোট নামানো হচ্ছে, যা পর্যটন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা—উভয় কাজেই লাগবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের সহযোগিতায় ২০ লক্ষ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ‘ডেস্টিনেশন সুন্দরবন’ নামে নতুন কর্মসূচিও শুরু হচ্ছে।

পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বক্সায় বাঘ ছাড়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যা আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে রূপায়ণ করা হবে। পর্যটকদের জন্য পার্ক ও গেস্ট হাউসের চারপাশ আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন দেশের কনসুলেট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশের পর্যটকদের রাজ্যে আকৃষ্ট করতে বিদেশি প্রতিনিধিদের কাছে বিশেষ আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।