“বাংলায় ৯০% পার করা ভোটিং!”-সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত? না কি নেপথ্যে অন্য রহস্য?

দক্ষিণেশ্বরের সেই বিখ্যাত চপ বিক্রেতার কথা মনে পড়ে? চপ ভাজতে ভাজতে তিনি বলতেন, “গরম দিলেও জ্বালা, ঠান্ডা দিলেও জ্বালা!” অর্থাৎ ক্রেতাকে খুশি করা দায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের হারের কাটাছেঁড়াও অনেকটা সেই চপ বিক্রেতার দর্শনের মতোই। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় যে হারে মানুষ বুথমুখী হয়েছেন, তা দেখে এখন রাজনৈতিক পণ্ডিতদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। সন্ধে সাড়ে ৭টার হিসেব বলছে, ১৫২টি আসনে ভোটদানের গড় হার ৯১.৭৪ শতাংশ! যা ২০২৪-এর লোকসভা তো বটেই, এমনকি ২০১১-র পরিবর্তনের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
জনতার রায়: পরিবর্তন না কি আতঙ্ক?
এত বিপুল ভোট মানেই কি নবান্নে নতুন কেউ আসছে? না কি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার (SIR) ভয়ে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন? এই উত্তর খুঁজতে DailyHunt কান পেতেছিল রবীন্দ্র সদনের চায়ের দোকান থেকে কলকাতা মেট্রোর কামরায়।
চায়ের দোকানের জটলা: রবীন্দ্র সদনের এক যুবক সটান দাবি করলেন, “এত ভোট মানেই সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত। মানুষ যখন খেপে গিয়ে ভোট দেয়, তখনই পারদ এমন চড়ে।” যদিও বিহারি দোকানদারের পাল্টা যুক্তি, “SIR-এর ডর বাবু, তাই সবাই লাইনে।”
মেট্রোর গুঞ্জন: অফিস ফেরত যাত্রীদের আলোচনায় উঠে এল এক দীর্ঘমেয়াদী আশঙ্কার কথা। এক মহিলা যাত্রীর কথায়, “২০ বছর পরে আমাদের সন্তানরা যাতে বিপদে না পড়ে, তার জন্যই এই রেকর্ড ভোট।” অর্থাৎ, নিজের নাগরিকত্বের অধিকার প্রমাণ করতেই কি এই মরিয়া লড়াই?
২০১১ বনাম ২০২৬: ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলা
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৪ শতাংশ। ২০২১ সালেও সেই রেকর্ড ভাঙেনি। কিন্তু ২০২৬-এর প্রথম দফাতেই ৯০ শতাংশের গণ্ডি পার করে দেওয়া নির্দেশ দিচ্ছে যে, এবার বাংলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড হতে চলেছে। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফাতেও যদি এই ধারা বজায় থাকে, তবে তা হবে এক অনন্য নজির।
নেতাদের দাবি ও সাধারণের প্রাপ্তি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন্দ্র মোদী থেকে শুভেন্দু অধিকারী— তিন পক্ষই দাবি করছেন প্রথম দফাতেই তাঁরা কেল্লাফতে করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মেজাজ বোঝা দায়। পার্কস্ট্রিটের এক অফিস যাত্রীর সপাট উক্তি, “তৃণমূল আসুক বা বিজেপি— আমাদের মতো আম আদমিকে এই ভিড় ঠেলে ট্রেনেই বাড়ি ফিরতে হবে।”