জেলা সভাপতি বদলাতেই রাজ্য কংগ্রেসে হুলুস্থুল! পোস্ট কেড়ে নিতেই বিস্ফোরক প্রদীপ প্রসাদ, তোলপাড় দল

আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে এআইসিসি (AICC)-র ‘সংগঠন সৃজন অভিযান’-এর হাত ধরে বাংলায় ৩৫টি সাংগঠনিক জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতির তালিকা প্রকাশ হতেই প্রকাশ্যে এলো দলের তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দীর্ঘদিনের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ প্রসাদকে দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র মিতা চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়ার পরেই বিধান ভবনের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম তোলপাড়।
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থান জানাব” — বিস্ফোরক প্রদীপ প্রসাদ
দক্ষিণ কলকাতার পদ খোয়ানোর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পর পর পোস্টে ক্ষোভ উগরে দেন ১৯৮৭ সাল থেকে দলে থাকা প্রদীপ প্রসাদ। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নাম না করে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন:
বিকল্প ভাবার বার্তা: “অনেক হয়েছে, আর নয়! এবার বিকল্প কিছু ভাবতেই হবে। যা হবে বড় করে হবে, রাজ্যজুড়ে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করব।”
‘পছন্দের তালিকায় ছিলাম না’: এআইসিসি পর্যবেক্ষক রসুল ওয়াশিংয়ের সমীক্ষায় অধিকাংশ কর্মী তাঁকে জেলা সভাপতি হিসেবে চাইলেও, প্রদেশ সভাপতির নিজস্ব ‘পছন্দের তালিকায়’ না থাকায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংগঠনিক রদবদল ও নতুন মুখ:
প্রদেশ কংগ্রেসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়াতেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এই রদবদল ঘটানো হয়েছে। নতুন তালিকায় প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে একাধিক তরুণ ও নতুন মুখকে সামনে আনা হয়েছে:
নতুন জেলা সৃষ্টি: সাংগঠনিক মানচিত্রে বদল এনে জেলা সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ভেঙে জঙ্গিপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনা ভেঙে বসিরহাট পৃথক জেলা হিসেবে গঠিত হয়েছে।
বাদ পড়লেন প্রবীণরা: প্রদীপ প্রসাদ ছাড়াও বাদ পড়েছেন মুর্শিদাবাদের মনোজ চক্রবর্তী, পুরুলিয়ার নেপাল মাহাতোর মতো পরিচিত মুখেরা।
নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তরা: দক্ষিণ কলকাতায় মিতা চক্রবর্তী, জঙ্গিপুরে আলফাজউদ্দিন বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদে ইশা খান চৌধুরী, পুরুলিয়ায় ফণিভূষণ কুমার ও পূর্ব বর্ধমানে গৌরব সামাদ্দার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া:
দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে প্রদেশ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রদবদলের সঙ্গে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্পর্ক নেই। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট, স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মতামত এবং পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ হওয়ার নিয়ম মেনেই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে প্রদীপ প্রসাদের “বিকল্প ভাবতেই হবে” সংক্রান্ত হুঁশিয়ারির পর আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিনি কী পদক্ষপ নেন এবং এই ক্ষোভ রাজ্য কংগ্রেসের অন্যান্য অসন্তুষ্ট নেতাদের মধ্যে ছড়ায় কিনা, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।