‘বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি তকমা’! দিল্লি থেকে পুশব্যাক হওয়া সোনালি-পুত্রকে ফেরাল ভারত, কিন্তু বাকি ৪ জন কোথায়?

দীর্ঘ ৫ মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে শাপমোচন হলো বীরভূমের মেয়ে সোনালি বিবি-র। শুক্রবার সন্ধ্যায় মালদার ভারত-বাংলাদেশের মেহদিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনালি বিবি ও তাঁর আট বছরের ছেলেকে ফিরিয়ে আনা হলো ভারতে। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বীরভূমের বাড়িতে থাকা তাঁর বাবা ভাদু শেখ।

কী ঘটেছিল সোনালি বিবির সঙ্গে?
গ্রেফতার: কাজের সূত্রে সোনালি বিবি তাঁর স্বামী দানিশ শেখ ও ছেলেকে নিয়ে দিল্লির রোহিণীর ২৬ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। গত ১৭ জুন তাঁদের গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ।

‘বাংলাদেশি’ তকমা: অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হয়।

পুশব্যাক ও বন্দিদশা: এরপর ২৬ জুন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি সহ মোট ৩ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। একই সঙ্গে সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই নাবালক ছেলেকেও গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫ মাসেরও বেশি সময় সোনালিকে বাংলাদেশের জেলে কাটাতে হয়েছে।

আদালতের লড়াই ও মানবিকতার জয়
এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ালে, ২৬ সেপ্টেম্বর ডিভিশন বেঞ্চ সোনালি বিবি-সহ ৬ জনকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: দীর্ঘ আইনি টালবাহানার পর বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, মানবিকতার খাতিরে সোনালি বিবি ও তাঁর ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে।

ফিরিয়ে আনা: শুক্রবার সন্ধে ৬.৫০ মিনিটে, মালদার মেহদিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনালি বিবি ও তাঁর ছেলেকে বিএসএফের (BSF) হাতে তুলে দিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)। কনকনে ঠাণ্ডায় গায়ে শাল জড়িয়ে ছোট্ট ছেলের হাত ধরে দেশের মাটিতে পা রাখলেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি।

পরিবারের ক্ষোভ ও বাকিদের ফেরা নিয়ে প্রশ্ন
সোনালি ফিরে এলেও, তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের জেলে বন্দি থাকা বাকি ৪ জনকে এপারে ফেরানো হয়নি। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূল নেত্রী লিপিকা বর্মন ঘোষের প্রশ্ন: মালদা জেলা পরিষদ তৃণমূল নেত্রী লিপিকা বর্মন ঘোষ বলেন, আরও চারজন ছিলেন। ওর ফ্যামিলি থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ছাড়া হলো না? এই প্রশ্ন ডেপুটি হাই কমিশনারকে করা হলেও তিনি উত্তর না দিয়ে চলে যান।

সোনালি বিবির বাবা ভাদু শেখ মেয়েকে কাছে পেয়ে খুশি হলেও, তাঁর ক্ষোভ ঝরে পড়ে:

“খুব আনন্দ লাগছে, কিন্তু অন্যায় কাজ করেছে। না জাজ করে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমার মেয়ের ডাক্তারও করা হয়নি, জেলে ভরা ছিল। বহুত অসুস্থ ও। এর দায় কে নেবে এখন? আমার তো ক্ষমতাও নেই দায় নেওয়ার।”

বার্থ সার্টিফিকেট সহ নানা নথি সামনে আসার পর সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে সোনালিদের দেশে ফেরানো হলেও, বাকিদের ফেরানোর জন্য আইনি লড়াই জারি থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy