বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা উত্তাল হলে কলকাতা গর্জে ওঠে, কিন্তু নেপালের ক্ষেত্রে নীরব কেন?

প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো গণ আন্দোলন হলেই কলকাতার প্রতিবাদী জনতা সাধারণত সংহতি জানাতে এগিয়ে আসে। গত বছর বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন এবং এর দুই বছর আগে শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের সময় কলকাতার রাস্তায় সংহতি মিছিল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার নেপালের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কলকাতা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব।
কলকাতার প্রতিবাদী দুই মুখ সৌম্য মণ্ডল এবং অনির্বাণ দাস এই নীরবতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। সৌম্য মনে করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। সেখানে মাত্র ২০ দিনে প্রায় ২ হাজার ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ এপার বাংলার মানুষকে দারুণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তাই প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। কিন্তু নেপালের পরিস্থিতি এখনও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়, তাই আন্দোলনটি অনুধাবন করতে সময় লাগছে।
অন্যদিকে অনির্বাণ মনে করেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে কলকাতার প্রতিবাদীরা শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে গিয়েছে, তা কলকাতার প্রতিবাদীরা চাননি।” বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর ধর্মীয় কট্টরপন্থীরা যেভাবে দেশটির দখল নিয়েছে, তা অনেকের কাছে কাম্য ছিল না। তাই নেপালের ক্ষেত্রে একই অভিজ্ঞতা যাতে না হয়, সেজন্য আগে থেকে সতর্ক থাকাটাই শ্রেয় বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রবীণ অধ্যাপক প্রদীপ বসু এই নীরবতাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আগে মনে করা হতো গণআন্দোলন মানেই প্রগতিশীল বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশ বা ইরানের মতো ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, গণআন্দোলনে এমন অনেক শক্তি মিশে থাকে যারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ নিয়ে ক্ষমতা দখল করে।” তার মতে, নেপাল নিয়ে কলকাতার প্রতিবাদীদের এই সাবধানী অবস্থান সঠিক।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ়াদ মেহমুদ মনে করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও রাজনৈতিক। ওপার বাংলার সাহিত্য, সিনেমা এবং গান বরাবরই এপারকে প্রভাবিত করেছে। নেপালের বিষয়টি আকস্মিকভাবে ঘটেছে, যেখানে বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো ঘটনা দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে ঘটেছে। ফলে প্রতিবাদীদের অবস্থান নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল, যা নেপালের ক্ষেত্রে ছিল না।