উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে তুমুল বিতর্ক! ভোটের কেনাবেচার অভিযোগ, অভিষেকের নিশানায় বিজেপি

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণণের জয়ের ব্যবধান নিয়ে বিরোধী শিবিরে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-র বিরুদ্ধে সরাসরি ভোট কেনার গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি প্রত্যেক সাংসদের ভোট কিনতে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ
বুধবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পর কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “কিছু লোকের সঙ্গে কথা বলার পর আমি বলতে পারি যে বিজেপি ভোট কেনার জন্য প্রত্যেক সাংসদ পিছু ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত সদস্যরা জনগণের আস্থা বিক্রি করছেন। প্রতিনিধি কেনা যায়, কিন্তু মানুষ নয়।”

তিনি দাবি করেন যে তৃণমূলের ৪১ জন সাংসদ (লোকসভার ২৮ জন ও রাজ্যসভার ১৩ জন) বিরোধী প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডিকে ভোট দিয়েছেন। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায় ভোট দিতে গিয়েছিলেন।

‘ক্রস ভোটিং’ নিয়ে সন্দেহ
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি ছিল যে ৩১৫ জন সাংসদ রেড্ডিকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি এর চেয়ে কম ভোট পান। এই নিয়ে অভিষেক বলেন, “যেহেতু গোপন ব্যালটে ভোট হয়েছে, তাই ‘ক্রস ভোটিং’ হয়েছে নাকি বিরোধী সদস্যদের ভোট বাতিল হয়েছে, তা বলা কঠিন।” তিনি আম আদমি পার্টির (এএপি) কিছু সাংসদের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যারা প্রকাশ্যে বিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অভিষেক অভিযোগ করেন, বিজেপি বারবার অর্থের অপব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।

বিজেপির পাল্টা জবাব
তৃণমূল নেতার এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমি অভিষেকের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে তাঁকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাই না। কিন্তু এই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে এনডিএ ঐক্যবদ্ধ, যেখানে বিরোধীরা বিভক্ত।”

তিনি আরও বলেন, এই ফলাফল বিরোধী শিবিরের ঐক্যের অভাবই তুলে ধরেছে। এই রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।