বাংলাদেশ থেকে সোজা আসাম হয়ে ট্রেনে! উত্তরবঙ্গে আরপিএফের জালে মায়ানমারের ৪ রোহিঙ্গা

ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেসে ধাওয়া করে সাফল্য! এনজেপিতে পাকড়াও ৪ আন্তর্জাতিক অনুপ্রবেশকারী
উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশন নিউ জলপাইগুড়িতে (NJP) বড়সড় সাফল্য পেল রেল পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ‘ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেস’ থেকে চারজন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে রেল সুরক্ষা বল (RPF) এবং গভর্নমেন্ট রেল পুলিশ (GRP)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা মূলত মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে রেলে চেপে সুদূর পাঞ্জাবে গা-ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
প্ল্যাটফর্মে ৬ নম্বর ট্রেনের সাধারণ কামরায় যৌথ হানা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগরতলা থেকে ফিরোজপুরগামী ত্রিপুরা সুন্দরী এক্সপ্রেসটি যখন এনজেপি স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়, ঠিক তখনই আরপিএফ ইন্সপেক্টর মুকেশ কুমার রাজাকের নেতৃত্বে বিশেষ বাহিনী এবং জিআরপির যৌথ দল ট্রেনের সাধারণ কামরায় তল্লাশি শুরু করে।
ট্রেনের প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেও চার যাত্রীর আচার-আচরণ ও গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় আধিকারিকদের। তাঁদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই গোলমেলে তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে।
কাগজপত্র উধাও, ধরা পড়ল অসঙ্গতি
জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন ওই চারজনের কাছে ভারতে প্রবেশের বা এখানে থাকার মতো কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। এর পরেই তাঁদের এনজেপি আরপিএফ পোস্টে নিয়ে আসা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ সালাম (২৬), মোহাম্মদ সুফায়েদ (১৮) এবং দুইজন নাবালক-নাবালিকা।
পুলিশের দাবি, ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা মায়ানমারের মূল নিবাসী হলেও এতদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও সংলগ্ন এলাকায় লুকিয়ে ছিল। পরবর্তীতে সীমান্ত টপকে বেআইনি পথে ভারতে ঢোকে এবং আসাম থেকে এই ট্রেনে ওঠে।
পাঞ্জাব যাত্রার নেপথ্যে কি কোনো বড় চক্র?
শিলিগুড়ির ডেপুটি এসআরপি অনুপম মজুমদার জানিয়েছেন, বৈধ নথিপত্র না থাকায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এই অনুপ্রবেশের ঘটনার পেছনে কোনো সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক পাচারচক্র বা দালাল গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আসাম থেকে কীভাবে তারা সহজেই ট্রেনে ওঠার সুযোগ পেল এবং সুদূর পাঞ্জাবে তাদের কাদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে জিআরপি।