বাঁকুড়ায় প্রতিবাদ, বাংলাভাষীদের ওপর নির্যাতন ও ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষদের উপর ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে প্রশাসনিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদে আজ বাঁকুড়ায় প্রতিবাদ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধিক্কার জানানো হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচির বিস্তারিত:
আজ সকালে বাঁকুড়া স্টেশন মোড়ে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে একটি বিশাল প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে বাঁকুড়া স্টেশন মোড়ে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
নেতাদের বক্তব্য:
সভায় সিআইটিইউ নেতা প্রতীপ মুখার্জি, উজ্জ্বল সরকার এবং তপন দাস বাংলাভাষীদের ওপর প্রশাসনিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা করেন। তারা বলেন, “বিজেপি সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য জাত-ধর্ম-ভাষা নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে। বাংলাভাষীদের ওপর যেভাবে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, তা চরম নিন্দনীয়।”
এআইটিইউসি-র ভাস্কর সিংহ ও সঞ্জু বরাট নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের শাসক দলের রাজনৈতিক অভিসন্ধি পূরণ করতে কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা করছে। বিহারে ৭১ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা গণতন্ত্রের জন্য এক অশনি সংকেত।”
এছাড়াও এআইসিসিটিইউ-এর বাবলু ব্যানার্জি, ইউটিইউসি-এর সুনীল পাত্র ও শান্তনু অধূর্য্য এবং বাঁকুড়া জেলা লরি ড্রাইভারস অ্যান্ড ক্লিনারস ইউনিয়নের সত্য মুখার্জি নিজেদের বক্তব্যে বিজেপি সরকারের বিভাজনের রাজনীতি এবং প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। তারা সম্মিলিতভাবে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ও অসংবেদনশীল নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে পরিষ্কার, বাংলাভাষীদের ওপর প্রশাসনিক হেনস্থা এবং ভোটাধিকার হরণের মতো বিষয়গুলি এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাম শ্রমিক সংগঠনগুলির এই কর্মসূচি আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।