বর্ণবৈষম্যের বলি দুর্গোৎসব! আজও সাগরদ্বীপে কান পাতলে শোনা যায় সেই রক্তাক্ত ইতিহাস

১৩৩২ সালে হরিণবাড়ি উত্তরপাড়ায় ১৩টি পরিবারের উদ্যোগে সাগরদ্বীপে প্রথম দুর্গাপূজার সূচনা হয়। সেই সময় যুধিষ্ঠির মণ্ডলের হাত ধরে এই পুজো শুরু হয়েছিল এবং প্রহ্লাদ মণ্ডল মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। কিন্তু এই মন্দিরে নিচু বর্ণের মানুষদের প্রবেশাধিকার ছিল না, এমনকি তাঁদের পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হতো না।

কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা এই জাতিগত বিবাদ ১৩৩৮ সালে চরম রূপ নেয়। উঁচু ও নিচু বর্ণের মানুষের মধ্যে তুমুল গণ্ডগোল শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত গুলি-গোলা পর্যন্ত গড়ায়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর ১৩৩৯ সালে মন্দির থেকে কিছুটা দূরে একটি নতুন দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামী কানাই মিত্র, বিপিন বেরা, অধর চন্দ্র দাস, পঞ্চানন দাস ও বিজয় চক্রবর্তীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পুজোটির নাম দেওয়া হয় ‘সাগর থানা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি’। এই নতুন পুজোয় সকল বর্ণের মানুষ একসঙ্গে পুজো দেওয়ার সুযোগ পান এবং এভাবেই শুরু হয় সাগরদ্বীপের প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপূজা।

বর্তমানে এই দুটি পুজোই একসঙ্গে পালিত হয় এবং বর্ণ বৈষম্যের সেই ইতিহাস এখন শুধুই অতীত। হরিণবাড়ি উত্তরপাড়া দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক অশোক মণ্ডল জানান, এখন সকল বর্ণের মানুষই এখানে এসে পুষ্পাঞ্জলি দেন। অন্যদিকে, সাগর থানা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির কর্মকর্তা দেশপ্রদীপ মাইতি জানান, তাঁদের মণ্ডপে এখনও উঁচু ও নিচু— উভয় বর্ণের ব্রাহ্মণ দিয়ে পুজো করানো হয়, যা সমাজে বর্ণ বৈষম্য মুছে ফেলার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ।