বয়স মাত্র এগারো! সর্বকনিষ্ঠ ডব্লিউজিএম হয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দাবাড়ু বোধনা

মাত্র এগারো বছর বয়সে দাবাবোর্ডে বুদ্ধি ও মেধার এমন বিস্ময়কর পরাকাষ্ঠা দেখালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ দাবাড়ু বোধনা শিবনন্দন, যা তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। উজবেকিস্তানের সমরকন্দে চলা ৪৬তম চেস অলিম্পিয়াডে রীতিমতো ইতিহাস গড়ে সর্বকনিষ্ঠ মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার বা ডব্লিউজিএম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এই খুদে প্রতিভা। ভেঙে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের সমস্ত রেকর্ড।

লন্ডনের হ্যারোর বাসিন্দা বোধনা ইংল্যান্ড দলের হয়ে অলিম্পিয়াডের ১১টি রাউন্ডেই খেলেছেন বোর্ডের ১ নম্বর পোর্ডে, অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। সমস্ত রাউন্ড মিলিয়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৮ পয়েন্ট। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা ফিডে নিশ্চিত করেছে যে, তাঁর তৃতীয় তথা চূড়ান্ত ডব্লিউজিএম নর্ম পূরণ হয়ে গিয়েছে। এর আগে ডব্লিউজিএম হওয়ার সর্বনিম্ন বয়সের রেকর্ড ছিল কাতেরিনা লাগনোর দখলে, যিনি ১২ বছর বয়সে এই খেতাব জিতেছিলেন। সেই দীর্ঘদিনের নজির ভেঙে মাত্র ১১ বছর বয়সেই মুকুট ছিনিয়ে নিলেন বোধনা।

এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আত্মবিশ্বাসী দাবাড়ু জানিয়েছেন, তিনি এই অর্জনে অত্যন্ত খুশি তবে এখানেই থামতে চান না। আরও এগিয়ে গিয়ে আরও ইতিহাস গড়তে চান তিনি। এই বিরাট সাফল্যের পাশাপাশি অলিম্পিয়াড থেকে নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাস্টার বা আইএম নর্মও অর্জন করেছেন বোধনা। গত জুলাইয়ে ফ্রান্সের ডোল ওপেন প্রতিযোগিতায় ১১ বছর চার মাস বয়সে প্রথম আইএম নর্ম অর্জন করে সর্বকনিষ্ঠ বালিকার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ২৬২৮ রেটিংয়ের গ্র্যান্ডমাস্টার মার্ক-অন্দ্রি মরিজ্জিকে হারিয়ে সেবারই বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন এই কিশোরী।

কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় প্রথম দাবাবোর্ডের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। ভারত থেকে ফেরা এক পারিবারিক বন্ধুর দেওয়া ব্যাগ থেকে একটি দাবাবোর্ড পান বোধনা। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অদম্য পথচলা। বাবা-মা দুজনেই ইঞ্জিনিয়ার হলেও তাঁদের দাবা নিয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। মাত্র সাত বছর বয়সে ইউরোপিয়ান স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপে ২৪টি ম্যাচেই জয়ী হন বোধনা। এরপর একে একে জুনিয়র ও সিনিয়র পর্যায়ে একাধিক রেকর্ড ভেঙে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা পাকা করেছেন এই দাবা প্রডিজি।

খেলার পাশাপাশি লন্ডনের একটি স্কুলে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বোধনার মতে, দাবা এবং পড়াশোনা একে অপরের পরিপূরক। ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম সেরা দাবাড়ু হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। সমরকন্দের এই আসর তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করলেও, থামতে নারাজ এই বিস্ময় প্রতিভা।