বম্বে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ! রাহুল গান্ধীর ফৌজদারি মানহানি মামলায় বড় মোড় সুপ্রিম কোর্টে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মানহানির মামলায় আপাতত ট্রায়াল বা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নিম্ন আদালতে এই মামলার শুনানি এগোবে না। তবে এই স্বস্তি কেবল অন্তর্বর্তীকালীন, মামলার চূড়ান্ত আইনি ফয়সালা এখনও বাকি।
রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির এক কর্মী মহেশ শ্রীশ্রীমল। তাঁর দাবি ছিল, ওই মন্তব্যের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ও সদস্যদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। এর পরই মামলাটি নিম্ন আদালতে পৌঁছয় এবং রাহুল গান্ধীকে সমন পাঠানো হয়। বম্বে হাই কোর্ট এর আগে তাঁর মানহানির মামলা খারিজের আবেদন নাকচ করেছিল। হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা।
লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের বেঞ্চে রাহুল গান্ধীর এই আবেদনের শুনানি হয়। শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই মামলায় নোটিস জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর পক্ষে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগের বৈধতা এবং কথিত মন্তব্যকে ঘিরে আইনি প্রশ্নগুলি খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে বম্বে হাই কোর্টে রাহুল গান্ধীর আইনজীবী সুদীপ পাসবোলা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট মন্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম নেওয়া হয়নি। তবে মহারাষ্ট্রের অ্যাডভোকেট জেনারেল ড. মিলিন্দ সাঠে এবং বিরোধীদের যুক্তি ছিল, বিজেপি একটি স্বীকৃত ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হওয়ায় তাকে শনাক্তযোগ্য গোষ্ঠী হিসেবে ধরে মানহানির মামলা চলতে পারে। হাই কোর্ট সেই যুক্তি মেনেই রাহুলের আবেদন খারিজ করেছিল। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।