কেরালা বিধানসভায় ঐতিহাসিক প্রস্তাব! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে খোদ কংগ্রেসের বিস্ফোরক পদক্ষেপে অস্বস্তি তুঙ্গে

নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কেরালা বিধানসভায় পাস হলো এক ‘ঐতিহাসিক প্রস্তাব’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) সরকারের আনা এই প্রস্তাব ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের ফলে কংগ্রেস নিজেই এক অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে, কারণ যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তারা আজ সরব, ঠিক সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এলডিএফ সরকারকে সরিয়ে কেরালায় ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। কেরালা বিধানসভার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

সোমবার কেরালা বিধানসভায় এই প্রস্তাবটি পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। বিধানসভার ১৪০ জন সদস্যের মধ্যে ১৩৭ জনই এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এর বিরুদ্ধে ভোট দেন কেবল বিধানসভার তিন বিজেপি বিধায়ক। প্রস্তাবটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনারদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সতীশন দাবি করেছেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি হল ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়।

কেরালা বিধানসভার এই পদক্ষেপের পরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতৃত্ব কংগ্রেসের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির কেরালা রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেছেন, যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জেরে কেরালায় কংগ্রেস মাত্র পাঁচ মাস আগে ক্ষমতায় এল, আজ সেই একই প্রক্রিয়াকে তারা প্রশ্ন করছে। একে ‘প্রতারণার রাজনীতি’ (fraud politics) বলে তোপ দেগেছে পদ্মশিবির।

বিশেষ করে, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরের একটি পুরনো মন্তব্য এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে থারুর প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, নির্বাচন কমিশনের এই ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার ফলে বামপন্থীদের একাধিক ভুয়ো ভোটার বাদ গেছে এবং কেরালায় কংগ্রেস লাভবান হয়েছে। মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারকে হারিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ১০২টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতা দখল করে।

বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, একদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন নির্বাচন কমিশন ও SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে এবং রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব আনছে, তখন খোদ তাদের দলের নেতারাই স্বীকার করছেন যে এই প্রক্রিয়াই তাদের নির্বাচনে জয়ী হতে সাহায্য করেছে। এমনকি এই সাংবিধানিক বিরোধিতার জেরে কেরালা বিধানসভার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। সবমিলিয়ে, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে গিয়ে কেরালার কংগ্রেস সরকার নিজেই এখন রাজনৈতিক এবং আইনি মারপ্যাঁচে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।