সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকত এলাকায় গাছের আড়াল থেকে অবিচারে নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালাচ্ছিল এক আততায়ী। ঠিক সেই সময় তাকে পিছন থেকে জাপটে ধরে বন্দুক কেড়ে নেন সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি। তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন, কিন্তু রক্ষা করেন একাধিক মানুষের প্রাণ। সিডনির বিচে বন্দুকবাজের হামলার ঘটনায় ‘নায়ক’ হিসেবে উঠে এসেছেন ৪৩ বছরের ফল বিক্রেতা আহমেদ আল আহমেদ।
সাহসিকতার ভিডিও ভাইরাল, বিশ্বনেতাদের প্রশংসা
সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত ইহুদিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘হানুকা বাই দ্য সি’-তে অংশ নিতে বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে দুই বন্দুকবাজ। নিমেষের মধ্যে একাধিক মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় আহমেদ আল আহমেদ নামে ওই ব্যক্তি সাহসিকতার সঙ্গে এক আততায়ীকে পিছন থেকে জাপটে ধরে তার বন্দুক কেড়ে নেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আহমেদের বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানেজ। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর প্রশংসা করেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিশ মিনস এই দৃশ্যটিকে ‘অবিশ্বাসজনক’ বলে ব্যাখ্যা করে বলেন, “প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এক বন্দুকবাজের দিকে একাই নিস্তব্ধে এগিয়ে যান এক ব্যক্তি। সেই সময় ইহুদিদের উপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল আততায়ী। কিন্তু সে সব তোয়াক্কা না-করেই বহু মানুষের প্রাণ বাঁচান ওই ব্যক্তি। তিনি একজন সত্যিকারের নায়ক।”
গুলিবিদ্ধ আহমেদ হাসপাতালে
নিজেকে আহমেদের ভাই বলে পরিচয় দিয়ে মুস্তাফা নামে এক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, আহমেদ সিডনিতে একটি ফলের দোকান চালান এবং দুই সন্তানের বাবা। এদিন আততায়ীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় দুটি গুলি লাগে তাঁর। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর অস্ত্রপচার করা হয়। মুস্তাফা বলেন, “আমাদের আশা তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি একজন সত্যিকারের নায়ক।”
এদিকে, নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশের তরফে এই বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, আততায়ীকে আটকে এক ব্যক্তি বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।
হামলার বলি ১৬ জন, দুই আততায়ী বাবা-ছেলে
রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ সিডনির সমুদ্র সৈকতে দুই বন্দুকবাজের গুলিতে প্রথমদিকে ১১ জনের প্রাণ গিয়েছিল। সোমবার সেই সংখ্যাটা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়িয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২০ জন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাল্টা পুলিশের গুলিতে এক বন্দুকবাজের প্রাণ গিয়েছে এবং অন্যজনের শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে, যার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হিজরগ, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোনো সংগঠন নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে জানা গিয়েছে, দুই বন্দুকবাজ সম্পর্কে বাবা ও ছেলে।