বজ্রপাত উপেক্ষা করে কাজ, শেষ হল জীবন, নদীয়ায় দম্পতির দেহ উদ্ধার, এলাকায় শোকের আবহ

মর্মান্তিক এক ঘটনায় নদিয়ার মুরুটিয়া থানার অন্তর্গত সিংগাডাঙা সরদারপাড়ায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন এক দম্পতি। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা মাঠের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। মৃতরা হলেন শ্যামল মণ্ডল (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী কুসুম মণ্ডল (৪০)।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে করিমপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে, ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ দুটি শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃষ্টির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়াই কাল হলো
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে শ্যামলবাবু ও তাঁর স্ত্রী জমিতে কাজ করতে যান। ওই সময় আচমকা প্রবল বজ্রপাত শুরু হলে তাদের সঙ্গে থাকা বাকিরা দ্রুত বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু এই দম্পতি বৃষ্টির মধ্যেই কাজ শেষ করে ফিরবেন বলে জানান। এরপর সারারাত তারা আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার সকালে অন্য কৃষকরা জমিতে কাজ করতে গিয়ে তাদের দেহ পড়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে বজ্রাঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে জানা যাবে। এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শ্যামলবাবু ও কুসুমদেবী অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পরামর্শ হলো, বজ্রপাতের সময় মাঠ বা খোলা জায়গায় না থেকে দ্রুত কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। শ্যামলবাবু ও কুসুমদেবীর এই অকালমৃত্যু আবারও প্রমাণ করে দিল যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অসাবধানতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে।