বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে একসঙ্গে তাণ্ডব! ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে ভাসবে কোন কোন রাজ্য?

সমুদ্রে জোড়া সাইক্লোনিক সিস্টেমের হুঙ্কার! ঘণ্টার ৬০ কিমি গতিতে ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
বর্ষা বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হতেই সমুদ্রের বুকে দানা বাঁধছে জোড়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়। একদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাতাড়ি গুটানোর দিকে এগোচ্ছে, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে একসাথে তৈরি হচ্ছে নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থা। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, জোড়া নিম্মচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের একাধিক অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।
রাজস্থান থেকে বর্ষার বিদায়, পাহাড়ে তুষারপাত
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিম রাজস্থানের কিছু এলাকা থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের জন্য পরিবেশ অনুকূল হয়ে উঠেছে। পর্যায়ক্রমে এই প্রত্যাবর্তন রেখা দিল্লি এবং সংলগ্ন উত্তর ভারতের দিকে অগ্রসর হবে।
বর্ষার দাপট কমতেই উত্তর ভারতের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে আবহাওয়ার আমূল বদল দেখা যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে মেঘের আনাগোনা বেড়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, কিছু পার্বত্য এলাকায় ইতিমধ্যেই হালকা তুষারপাত শুরু হয়েছে এবং বৃষ্টিপাত বাড়লে তুষারপাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের চোখরাঙানি
বর্ষা চলে গেলেও নিম্নচাপের হাত থেকে নিস্তার মিলছে না। উত্তর থাইল্যান্ডের দিক থেকে আসা একটি ঘূর্ণাবর্ত বর্তমানে উত্তর আন্দামান সাগরে ঘনীভূত হচ্ছে।
নতুন নিম্নচাপ বলয়: আন্দামান সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত একটি নিম্নচাপ বলয় তৈরি হতে চলেছে।
গতিপথ: আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে এবং দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে আছড়ে পড়তে পারে।
অক্ষরেখা ও অন্যান্য ট্রাফ: উত্তর গুজরাটে পৃথক ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি সিকিম থেকে শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্যান্য রাজ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস
জোড়া আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কেমন আবহাওয়া থাকবে:
পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারত: উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে তুমুল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর এবং ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই বাড়বে। বিহারেও ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। অন্যদিকে ওড়িশায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারত: হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব রাজস্থানে কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত: কোঙ্কণ, গোয়া এবং গুজরাতের কিছু অংশে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা রয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরল এবং কর্ণাটকেও ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ লাল সতর্কতা
সমুদ্র উত্তাল ও বিপদজনক রূপ নেওয়ার কারণে আইএমডি (IMD) মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া নির্দেশনা জারি করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ, আন্দামান সাগর, দক্ষিণ শ্রীলঙ্কা উপকূল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম আরব সাগরে ট্রলার বা নৌকা নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ মায়ানমার উপকূলে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।