বঙ্গোপসগারে ফের ঘূর্ণাবর্ত…! দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দুর্যোগের আশঙ্কা, সাবধান হয়ে যান সকলে

বঙ্গোপসাগরের উপর নতুন করে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রবল দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা, এবং আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘূর্ণাবর্ত একটি নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগের দিকে জলীয়বাষ্প ছুটে আসবে, যার ফলে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এই পরিস্থিতিতে উপকূলে মাইক নিয়ে চলছে ব্যাপক প্রচার, মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উপকূলে সতর্কতার চিত্র:

সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কায় উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ফ্রেজারগঞ্জ ও গঙ্গাসাগর এলাকার মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে হারাধন ময়রা জানিয়েছেন, “বারবার এই অবস্থার ফলে আমাদের খুবই ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ট্রলার তেল ভরে সমুদ্রের মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু আবহাওয়া খারাপের জেরে মাছ ধরতে পাচ্ছে না। যার ফলে আমাদের চরম সমস্যা হচ্ছে। এখন এই সমস্যার সমাধান হলে খুব ভাল হয়।” ট্রলারগুলো সমুদ্রে যেতে না পারায় জীবিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃষ্টি ও প্লাবনের আশঙ্কা:

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকবে এবং বৃহস্পতিবার থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলি নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা এই সম্ভাব্য প্লাবন নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত চলতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।

জেলা প্রশাসন এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।