বছরের শেষে ফের শ্রমিক অসন্তোষ এবং মালিকপক্ষের গাফিলতির জেরে বন্ধ হয়ে গেল ডুয়ার্সের আরও একটি চা বাগান। শুক্রবার গভীর রাতে বানারহাটের মোগলকাটা চা বাগান কর্তৃপক্ষ কোনওরকম নোটিশ ছাড়াই বাগান ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এর ফলে এক ধাক্কায় প্রায় ১,০৭৬ জন চা শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ
শনিবার সকালে শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখেন, বাগানে কোনও কর্তৃপক্ষ নেই। এমনকি কারখানার ভিতরে কোনও গাড়িও চোখে পড়েনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত চা শ্রমিক কারখানার গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আন্দোলনকারী এক মহিলা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমাদের বোনাস দেয়নি। এমনকী মাইনে বাকি আছে। এক সপ্তাহ ছেড়ে ছেড়ে টাকা দিচ্ছিল। কোম্পানির সব কথা শুনেছি। তারপরও আমাদের সঙ্গে এমন করল।”
অভিযোগ ও পাওনা
চা শ্রমিকদের মূল অভিযোগ, মালিক কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই বেতন ও দৈনিক মজুরি বকেয়া রেখে দিয়েছেন। এমনকি দুর্গোৎসবের পূজোর বোনাসও এখনও পরিশোধ করা হয়নি। একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে পাওনা মেটানোর দাবি জানানো হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। অভিযোগ, সমস্ত পাওনা মেটানো ছাড়াই শুক্রবার রাতে গোপনে বাগান ছেড়ে পালিয়ে যায় মালিকপক্ষ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রাক্তন নাগরাকাটা বিধায়ক সুখমইত ওঁরাও এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জন বার্লা। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
শ্রমিকদের দাবি ও হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের স্পষ্ট দাবি, রাজ্য প্রশাসন অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক। মালিক কর্তৃপক্ষকে ধরে এনে সমস্ত বকেয়া মজুরি ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা হোক। দাবি না মানলে তাঁরা আরও বড় আন্দোলন শুরু করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।