বইপত্র ভেসে গেছে বন্যায়, জলপাইগুড়ির তিস্তা পাড়ে ‘বিডিও-র পাঠশালা’, পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে নিজেই ধরলেন ক্লাস

গত ৫ অক্টোবর তিস্তা নদীর বিধ্বংসী বন্যায় জলপাইগুড়ির তিস্তা পাড়ের একাধিক অঞ্চল প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের সঙ্গে ভেসে যায় বানভাসি এলাকার ছাত্রছাত্রীদের বইপত্রও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বইপত্রের অভাবে পড়াশোনা প্রায় লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ধরতে এগিয়ে এলেন জলপাইগুড়ির সদর ব্লকের বিডিও মিহির কর্মকার।

খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তিস্তা পাড়ের সুকান্ত নগরের রায়পাড়া গ্রামে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন বিডিও সাহেব। তিনি এলাকার ছাত্রছাত্রীদের ডেকে নিয়ে আইসিডিএস সেন্টারে নিজেই পড়াতে বসে পড়েন।

বিডিও-র উদ্যোগ: পড়া, ছড়া ও সরঞ্জাম বিতরণ
বিডিও মিহির কর্মকার শুধু পড়া ধরেননি, ছাত্রছাত্রীদের মুখ থেকে মনোযোগ দিয়ে ছড়াও শুনেছেন। এমনকি, শিশুদের আঁকা ছবিও দেখেন। তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতেই এই উদ্যোগ।

শিক্ষাদান: বিডিও ছাত্রছাত্রীদের পড়ান এবং তাদের পড়া ধরেন।

সহায়তা: এই দিন তিনি তিস্তা পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের হাতে লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেন।

বিডিও-র এই মানবিক উদ্যোগে বানভাসি এলাকার ছাত্রছাত্রীরা নতুন করে পড়াশোনায় উৎসাহ পেয়েছে। অভিভাবক থেকে পঞ্চায়েত সদস্যরা—সকলেই এই পদক্ষেপে আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং বিডিও-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।