ফ্রিজে চশমা রাখছেন বা বারবার একই কথা বলছেন? সাবধান! এই ৫ লক্ষণ হতে পারে ভয়ংকর ডিমেনশিয়ার ইশারা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাওয়া বা চশমা কোথায় রেখেছেন তা মনে করতে না পারা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ভুলে যাওয়ার এই প্রবণতা যদি দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তবে তা আর বার্ধক্যজনিত সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে বর্তমানে ৮৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে সাধারণ ভুলে যাওয়া বলে এড়িয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ কয়েকটি পরিবর্তন সময়মতো নজরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ডিমেনশিয়ার ৫টি প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ:
১. একই প্রশ্ন বা গল্প বারবার বলা: কিছুক্ষণ আগেই যে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে, ঠিক কয়েক মিনিট পর আবার সেই একই প্রশ্ন করা কিংবা একই গল্প বারবার বলা নতুন তথ্য মনে রাখতে পারার সমস্যাকে নির্দেশ করে।

২. জিনিসপত্র অস্বাভাবিক জায়গায় রাখা: প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন চশমা বা চাবির মতো বস্তু বারবার এমন অদ্ভুত জায়গায় রাখা, যেখানে সেগুলির থাকার কথাই নয় (যেমন ফ্রিজের ভেতরে চশমা), তা উদ্বেগের বিষয়।

3. পরিচিত শব্দ খুঁজে না পাওয়া: কথাবার্তা বলার সময় হঠাৎ খুব সাধারণ বা পরিচিত কোনও শব্দের কথা মনে না আসা এবং বারবার সেটিকে ‘ওই জিনিসটা’ বা ‘ওটা’ বলে বুঝানোর চেষ্টা করা।

৪. পরিচিত কাজেও সমস্যা হওয়া: যে কাজগুলো মানুষ বছরের পর বছর অত্যন্ত সহজে করে এসেছেন, হঠাৎ করেই সেই কাজগুলি কঠিন ঠেকলে সতর্ক হওয়া দরকার। যেমন পরিচিত রান্নার রেসিপি ভুলে যাওয়া, হিসাব করতে বা সময়মতো বিল মেটাতে সমস্যা হওয়া।

৫. তারিখ বা পরিচিত জায়গা নিয়ে বিভ্রান্তি: মাঝেমাঝে সপ্তাহের কোন দিন চলছে তা ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও মাস, ঋতু বা বছর নিয়ে বারবার বিভ্রান্ত হওয়া কিংবা চেনা পরিচিত জায়গায় যাওয়ার রাস্তা হারিয়ে ফেলা গুরুতর লক্ষণ।

এই পাঁচটি লক্ষণ দেখা মাত্রই যে কারও ডিমেনশিয়া হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক জটিলতার কারণেও একই রকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও সঠিক পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।